প্রিয়রঞ্জন কাঁড়ার : কলকাতা, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। প্রথম যখন তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে শুরু করলেন, অন্য অনেকের মতোই ‘নাটক’, ‘পলিটিক্যাল চাল’ এসব শব্দ বা শব্দবন্ধ আমার মাথাতেও খেলা করেছিল। এমনকি, তাঁর পুত্র যখন “বাবা অসুস্থ” বলতেন, শুরুর দিকে কেউই বিশ্বাস করেনি।
একজন চাণক্য, যিনি ছলে-বলে-কৌশলে চিরকাল নিজের ও দলের জন্য একটা একটা করে শৃঙ্গ জয় করেছেন, নিজের দলে কোণঠাসা হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে দল বদল করেছেন, ন্যায়-অন্যায়ের কোনও দিন তোয়াক্কা করেননি, তাঁকেই ঈশ্বরের অঙ্গুলি হেলনে শীর্ণ দেহে পরনির্ভর জীবন যাপন করতে হবে, এটা বিশ্বাস করতেও আমজনতার অনেকটা সময় লেগেছিল।
মুকুল রায়ের প্রয়াণে রাজ্য-রাজনীতির একটা মহা-বিতর্কিত অধ্যায়ের অবসান হলো। এই অধ্যায়ের ক্লাইম্যাক্স তথা অবিশ্বাস্য ক্যাটাসট্রফি মানুষকে চোখে আঙুল দিয়ে অনেক কিছু শিখিয়ে যায়। পার্থিব মোহে জর্জরিত জীবন পরিক্রমা শেষে মহাপ্রস্থানের পথে মুকুলবাবুর যাত্রা সম্পূর্ণ ভারমুক্ত ও নির্মোহ হয়ে উঠুক, এই কামনা করি।

