শ্যামল চক্রবর্তী : কলকাতা, ২৩ জুন, ২০২৬। এমনিতেই আজকাল চোখের সমস্যার জন্য টি ভি দেখা প্রায় হয়ই না। আজ সকালে হঠাৎই টিভি’র সামনে বসেছিলাম কিছুটা সময়। তখনই এই লেখাটা’র কথা মনে পড়লো।
আমার সাংবাদিক জীবনের প্রায় ৪০ বছর অতিক্রান্ত। এরমধ্যে কিছু ঘটনার সাক্ষী হিসাবে নিজেকে অনেক সমৃদ্ধ বলে মনে হয়।
বামফ্রন্ট সরকারের আমলে আমার দুজন মুখমন্ত্রীর বিধানসভার অধিবেশনের ছবি তোলার অভিজ্ঞতা হয়েছে। জ্যোতি বসু এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।
আমার ঠিক মনে নেই, সম্ভবত ৯০ দশকের গোড়ার দিকের কথা। তখন কংগ্রেস পার্টি বিরোধী আসনে বসতো, তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম হয়নি তখনো। স্পিকার হয়ে সভা পরিচালনা করতেন হালিম সাহেব।
কোনো কারণে সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে বিরোধী দল। সেটা নিয়েই সেদিন সভায় আলোচনা চলছিল।
আমি যেহেতু চিত্রসাংবাদিক ছিলাম আর ভেতরে ক্যামেরা নিয়ে ঢোকা নিষেধ। সারাদিন বিধানসভার লবিতে বসেই কেটে যেত। সে দিন কী মনে হলো জানিনা আমার এক সহকর্মীর কাছে ক্যামেরার ব্যাগটা রেখে ভেতরে গিয়ে রিপোর্টারদের আসনে গিয়ে বসেছিলাম কিছুটা সময়।
খুব গুরু গম্ভীর বিতর্ক চলছে। বিরোধী দলনেতা সম্ভবত অতীশ সিংহ। ভরা হাউস, অনাস্থা মোশন বলে কথা! সুব্রত মুখার্জী বরাবরই একটু রসিকতা প্রবন ছিলেন। হঠাৎ তিনি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন ” স্যার আপনার বিরুদ্ধে আমার একটা অভিযোগ আছে। ”
হালিম সাহেব সভার ‘কেতা’ মেনেই বললেন বলুন কী অভিযোগ?
আপনি মহামান্য বিধায়কদের ‘তুই-তোকারি’ করেন কেন?’আপনি’ বলে সম্বোধন করতে পারেন না?
হালিম সাহেব ততোধিক অবাক হয়ে বললেন কাকে ‘তুই’ বলে ডেকেছি? আপনাকে তো ‘আপনি’ বলেই ডাকলাম!
সুব্রত মুখার্জী সটান বললেন ” কেন এক্ষুনি আপনি পদ্মনিধি ধর বলে ডাকেন নি? অঞ্জু কর বলে ডাকেন না?” কেন পদ্মনিধি ধরুন, অঞ্জু করুন বলতে পারেন না? এটা তুই তোকারি নয়তো কী?
তারপর যেটা ঘটলো তা এখন কল্পনাও করা যায়না, কিম্বা হয়তো যায়! হালিম সাহেব টেবিলের ওপর হাসতে হাসতে প্রায় গড়িয়ে পড়লেন। সারা হাউস প্রায় গড়াগড়ি খাচ্ছে। অমন সদা হাস্যবিমুখ জ্যোতি বাবুর মুখেও চওড়া হাসি খেলেছিল। পদ্মনিধি ধর মশাইকে আসন ছেড়ে উঠে সুব্রত মুখার্জিকে জড়িয়ে ধরতে দেখা গেলো।
প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি আজকের দীপ্সিতা ধর সেদিনের পদ্মনিধি ধরের পৌত্রী।
ঋণ স্বীকার :-আশুতোষ রায়, বিশ্বকল্যাণ চৌধুরী,পার্থসারথি সেনগুপ্ত পল্লব ব্যানার্জী।
ছবি- প্রতীকী।

