জয়া কেন কালীঘাটে…. !

জয়া কেন কালীঘাটে…. !

Spread the love

কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ২ জুলাই, ২০২৬। রাজনীতিতে সম্পর্কের সমীকরণ কখনও সরলরেখায় চলে না। মতভেদ, সমালোচনা, দূরত্ব সব কিছুর মধ্যেও কখনও কখনও একটি সাক্ষাৎ নতুন করে জল্পনা ছড়ায়। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাই নজরে কালীঘাট ! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছালেন সমাজবাদী পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ তথা বর্ষীয়ান অভিনেত্রী জয়া বচ্চন ! তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। কালীঘাটের বাড়ীতে স্বাগত জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সৌজন্য সাক্ষাত নিয়েই রাজনৈতিক মহলে এখন বিস্তর আলোচনা। কারণ, এই বৈঠকের সময় এবং প্রেক্ষাপট !

লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক সমাজবাদী পার্টি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। নির্বাচনে তৃণমূলের আশানুরূপ ফল না হওয়ার পর বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে কারচুপির অভিযোগ তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবী, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে ভোটের ফলে বদল ! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান। করেন দীর্ঘ আলোচনাও ! রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই সাক্ষাৎ ছিল বিরোধী ঐক্যের বার্তা এবং কঠিন সময়ে মমতার পাশে থাকার প্রতীক।

কিন্তু সেই ছবিটা খুব বেশি দিন অটুট থাকেনি। কিছুদিন আগেই সমাজবাদী পার্টির বর্ষীয়ান নেতা কিরণময় নন্দর সম্পূর্ণ উল্টো মন্তব্য ! তিনি স্পষ্ট বলেন, মানুষের সমর্থন না পাওয়ার কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনে হেরেছেন। তাঁর বক্তব্য, পরাজয়ের জন্য অন্য কাউকে দায়ী না করে বাস্তব পরিস্থিতি মেনে নেওয়াই উচিৎ। শুধু তাই নয় তাঁর কথায়, রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণে অনেক সময় অনেক কথা বলতে হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি কার্যত অখিলেশ যাদবের মমতার প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনের দিকেই ইঙ্গিত করেন। কিরণময়ের এই মন্তব্যের পর থেকেই সমাজবাদী পার্টি ও তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়।

ঠিক এই আবহেই বৃহস্পতিবারের জয়া বচ্চনের আসা কালীঘাটে ! বাংলার মেয়ে জয়া বচ্চনের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। অতীতেও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে তিনি তৃণমূলের হয়ে প্রচারে অংশ নিয়েছেন। রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি দুই নেত্রীর মধ্যে ব্যক্তিগত সৌহার্দ্যও বরাবরই আলোচনার বিষয়। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর এই সফর নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি নেপথ্যে রয়েছে আরও বড় কোনও রাজনৈতিক বার্তা সেই প্রশ্নই এখন লক্ষ টাকার !

জয়া বচ্চন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে সবারই মুখে কুলুপ। বৈঠকের বিষয়বস্তু গোপনই রাখা হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা। কেউ মনে করছেন, কিরণময় নন্দের বিতর্কিত মন্তব্যের পর সমাজবাদী পার্টির তরফে সম্পর্কের বরফ গলানোর একটি প্রয়াস হতে পারে এই সাক্ষাৎ। আবার অনেকের ধারণা, ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল, বিরোধী শিবিরের ঐক্য কিংবা আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়ে থাকতে পারে।

বৈঠক নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি, তবুও কালীঘাটে জয়া বচ্চনের উপস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে কৌতূহল ! তবে এই বৈঠক নিছক সৌজন্যের, নাকি আগামী দিনে ইন্ডিয়া জোটের রাজনীতিতে নতুন কোন সমীকরণের ইঙ্গিত, সেই উত্তরেরই খোঁজে রাজনৈতিক মহল।

আমার একটাই প্রশ্ন, সমাজবাদী পার্টি এবং অখিলেশ যাদব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘটনা কিছু জানেননা, তা কি সম্ভব ! একই সঙ্গে ইন্ডি জোটের ভিন্ডি কিভাবে চটকেছিলেন, তাও আশা করি ভুলে যাননি। আপনাদের মতে রহস্যটা কি?

 

 

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *