কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ২১ জুলাই, ২০২৬। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন উদ্যোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত সিদ্ধান্তর একটি হল সরকারি বাসে মহিলা যাত্রীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াত।
এখন সেই প্রকল্প নিয়েই নতুন বিতর্ক ! আশ্চর্যের বিষয়, আপত্তি মহিলাদেরই একাংশর ! বাসের কন্ডাক্টরদের মধ্যেও এই ব্যবস্থা নিয়ে নানা অসন্তোষ ! ফলে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও তৈরি হচ্ছে জটিল পরিস্থিতি !
অনেক স্বনির্ভর ও কর্মজীবী মহিলা মনে করছেন, তাঁরা নিজেদের উপার্জনের টাকায় সরকারি পরিষেবা নিতে সক্ষম। তাই বিনামূল্যে পরিষেবা নেওয়ার বদলে তাঁরা নিয়ম মেনেই টিকিট কেটে বাসে যাতায়াত করতে চান। তাঁদের মতে, সরকারি পরিষেবার মূল্য দেওয়া তাঁদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। আবার অনেক মহিলা যাত্রীর অভিযোগ, যেহেতু তাঁদের আর টিকিট কাটতে হয় না, তাই কিছু সরকারি বাসের চালক বা কর্মীরা নির্দিষ্ট বাসস্টপে মহিলা যাত্রীদের দেখেও অনেক সময় বাস থামাতে অনীহা দেখান ! এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। তাঁদের সুবিধার জন্য চালু হওয়া প্রকল্প অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের কাছে সমস্যার কারণ বলে অভিযোগ। ফলে বিনামূল্যে সরকারি বাস পরিষেবা বাস্তবে কতটা কার্যকর, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা !
এই পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার কসবার পরিবহণ ভবনে নতুন ৫০টি সরকারি বাসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল-সহ পরিবহণ দপ্তরের একাধিক শীর্ষ আধিকারিকও। নতুন বাস পরিষেবার সূচনার পাশাপাশি মহিলা যাত্রীদের এই সমস্যার কথাও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার রাজ্যের মা-বোনদের কথা ভেবেই সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ করে দিয়েছে। এখন তাঁদের আর টিকিট কাটতে হয় না। কিন্তু সাম্প্রতিক তাঁর কানে এসেছে, অনেক মহিলা যাত্রী নিজেরাই টিকিট কেটে যাতায়াত করতে চাইছেন। কেউ কেউ নাকি জানিয়েছেন, তাঁদের মাসিক আয় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। তাই তাঁরা বিনামূল্যে পরিষেবা নিতে চান না, বরং নিজের টাকায় ভাড়া দিতে আগ্রহী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। যাঁরা ইচ্ছা করলে ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে চান, তাঁদের জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। অর্থাৎ, সরকারি প্রকল্প চালু থাকলেও যাঁরা স্বেচ্ছায় ভাড়া দিতে চান, তাঁদের সেই সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
প্রথমেই অনেক ধন্যবাদ জানাব স্বপার্জিত মহিলাদের একাংশের বাসভাড়া দিয়ে যেতে চাওয়ার জন্য। এই ভাবনা তাঁদের আত্মসন্মানের প্রতীক। ভাবছি আপনাদের সঙ্গে আমার পাশের ফ্ল্যাটের মহিলাদের মানসিকতার তফাৎ ! যথেষ্ট স্বচ্ছল এবং উপার্জনশীল হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের সবসময় আলোচনা কিভাবে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা এবং পিঙ্ক কার্ড পাবেন ! আসলে, আগের সরকার বাঙ্গালীকে মানসিক ভিখারি তৈরী করেছে ! 
এই প্রকল্পের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী করার পর খবর করার সময়, ঠিক এই বিষয় নিয়েই লিখেছি। অনেকে মহিলাই ভাল উপার্জনশীল, টিকিট কাটা তাঁদের কাছে কোন সমস্যা নয়। অথচ, নিজের চোখে দেখা, একটি বেকার ছেলের পকেটে টাকা কম বলে, চাকরির ইন্টারভিউয়ে হেঁটে যাচ্ছে ! তাই অনুরোধ করেছি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে, ওদের কথাও একটু ভাববেন। সেই অনুরোধ আবার রাখছি, মুখ্যমন্ত্রী এবং পরিবহণ মন্ত্রীর কাছে, এই ছেলেদের কথাও অনুগ্রহ করে একটু ভাবুন।
সরকারী প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য। আমাদের মনে রাখা উচিৎ, আমরা যেন সেই প্রকল্পের অপব্যবহার না করি। সরকার মানে কিন্তু গৌরী সেন নয়, লাগে টাকা দেবেন তিনি। কেউ সক্ষম হলে, কোন প্রকল্পের সুবিধা স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিন অনুগ্রহ করে। আপনার ছেড়ে দেওয়া সুবিধা আরেকজন অভাবী মানুষ পেতে পারেন। আর ভগবান তাতে খুশীই হবেন, মনে হয়। আপনাদের কি মত?

