কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ২৬ জুলাই, ২০২৬। ব্যাংকক থেকে কলকাতায় আসা একটি বিমানের যাত্রীর লাগেজ খুলতেই যেন চোখ কপালে উঠল বিমানবন্দরের শুল্ক দপ্তরের আধিকারিকদের। সাধারণ লাগেজের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বিপুল সংখ্যক জীবন্ত বিদেশি বিরল প্রজাতির কচ্ছপ। এক-দু’টি নয়, উদ্ধার হয়েছে মোট ৭০৭টি রেড-ইয়ার্ড স্লাইডার (Red-Eared Slider) প্রজাতির কচ্ছপ। এই বিরাট উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে কলকাতা বিমানবন্দরে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারচক্রের সম্ভাব্য যোগ খতিয়ে দেখার কাজ।
শুল্ক দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার ইন্ডিগোর 6E-1058 নম্বর বিমানে ব্যাংকক থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছন এক যাত্রী। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি চেন্নাইয়ের বাসিন্দা। বিমান থেকে নেমে তিনি যখন গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তখনই তাঁর গতিবিধি এবং লাগেজ দেখে সন্দেহ হয় শুল্ক দপ্তরের আধিকারিকদের। সন্দেহের বশে তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। এরপর তাঁর লাগেজে তল্লাশি চালাতেই সামনে আসে অবিশ্বাস্য দৃশ্য।
লাগেজের ভিতর থেকে ভেসে আসছিল নড়াচড়ার শব্দ। ব্যাগ খুলতেই একের পর এক জীবন্ত কচ্ছপ বেরিয়ে আসে। সব মিলিয়ে ৭০৭টি বিদেশি বিরল প্রজাতির রেড-ইয়ার্ড স্লাইডার কচ্ছপ উদ্ধার করেন কাস্টমস আধিকারিকরা। এত বিপুল সংখ্যক কচ্ছপ একসঙ্গে উদ্ধার হওয়ায় হতবাক হয়ে যান তদন্তকারীরাও।
তল্লাশির সময় ওই যাত্রীর কাছে এই কচ্ছপগুলি ভারতে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কোনও বৈধ লাইসেন্স বা অনুমোদনের নথি পাওয়া যায়নি। ফলে কাস্টমস আইন, ১৯৬২, বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন, ১৯৭২ এবং আন্তর্জাতিক সাইটস (CITES) বিধি অনুযায়ী সমস্ত কচ্ছপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত যাত্রীকেও আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তদন্তকারীরা এখন জানার চেষ্টা করছেন, এই বিপুল সংখ্যক কচ্ছপ ঠিক কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কেন সেগুলি কলকাতায় আনা হচ্ছিল এবং এখানে কার হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এর নেপথ্যে কোনও আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারচক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোটা ঘটনার প্রতিটি দিক খুঁটিয়ে তদন্ত করছেন শুল্ক দপ্তরের আধিকারিকরা। এই উদ্ধার শুধু একটি বড়সড় চোরাচালান চেষ্টারই ইঙ্গিত দেয় না, একই সঙ্গে বিরল বন্যপ্রাণী পাচারের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের দিকেও নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।

