কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ২৮ জুলাই, ২০২৬। আইপিএল শেষ হয়েছে প্রায় দু’মাস। ক্রিকেটের উন্মাদনা নেই, গ্যালারির গর্জনও এখন স্মৃতি। কিন্তু সেই আইপিএলকে ঘিরেই নতুন বিতর্ক, নন্দন কানন ইডেন গার্ডেন্সে ! ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের দেওয়া শ্রেষ্ঠ মাঠের স্বীকৃতির সঙ্গে পাওয়া ৫০ লক্ষ টাকার পুরস্কার এখন আশীর্বাদের বদলে অশান্তির কারণ ! এই অর্থ কীভাবে ভাগ হবে, তাই নিয়েই মতবিরোধ ! এই বিরোধের সবচেয়ে বড় শিকার মাঠকর্মীরাই !
ইডেন গার্ডেন্স এবারের আইপিএলে দেশের সেরা মাঠের স্বীকৃতি পেয়েছে। সেই সঙ্গে এসেছে ৫০ লক্ষ টাকার পুরস্কারও। সেই অর্থের একটি অংশ সিএবির অফিস কর্মীদের হাতে পৌঁছে গেলেও, মাঠ তৈরি করা গ্রাউন্ডসম্যানদের হাতে কানাকড়িও পৌঁছয়নি ! অথচ আইপিএল চলাকালীন তাঁরাই ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাঠের ঘাস, পিচ, আউটফিল্ড সবকিছু নিখুঁত রাখার জন্য নিরলস পরিশ্রম করেছেন। রোদ, বৃষ্টি, ঝড় কোনও কিছুই তাঁদের থামাতে পারেনি। তাই প্রশ্ন উঠছে, তাঁদের খাটনির ওপর দাঁড়িয়েই এই সম্মান আর তাঁদের প্রাপ্য অর্থই আটকে !
এই জটিলতার নেপথ্যে সিএবির কর্তাদের সঙ্গে ইডেনের কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়ের মতপার্থক্য ! সুজনের দাবি, আইপিএলের সময় সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করেছেন ইডেনের মাঠকর্মীরাই। অনেক দিন সকাল সাতটা থেকে রাত দু’টো পর্যন্ত টানা কাজ করেছেন তাঁরা। তাই বোর্ডের দেওয়া পুরস্কারের সবচেয়ে বড় অংশ তাঁদেরই প্রাপ্য। অন্য মাঠের কর্মীরাও অবশ্যই অর্থ পাবেন, কিন্তু ইডেনের মাঠকর্মীদের সমান নয়। কারণ দায়িত্ব ও পরিশ্রমের মাত্রা এক ছিল না।
সুজনের যুক্তি অতীতেও এর নজির আছে। আগেও দু’বার ইডেন গার্ডেন্স দেশের সেরা মাঠের স্বীকৃতি পেয়েছে। সেই সময়ও পুরস্কারের সিংহভাগ অর্থ পেয়েছিলেন ইডেনের গ্রাউন্ডসম্যানরা। অন্য মাঠের কর্মীদের দেওয়া হয়েছিল সম্মানসূচক বা টোকেন অর্থ। তাই এবার সেই রীতি বদলানোর কোনও কারণ তিনি দেখছেন না।
অন্যদিকে সিএবির একাংশের মত সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের বক্তব্য, পুরস্কারের অর্থ বণ্টনে কোনও বৈষম্য থাকা উচিত নয়। ৫০ লক্ষ টাকাকে ৬০-৪০ অনুপাতে ভাগ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ মোট টাকার ৬০ শতাংশ মাঠকর্মীদের এবং ৪০ শতাংশ সিএবির অফিস কর্মীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। অফিস কর্মীদের অংশ ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে এবং প্রত্যেকেই সমান অঙ্কের টাকা পেয়েছেন। একইভাবে মাঠকর্মীদের মধ্যেও সমানভাবে অর্থ ভাগ হওয়া উচিত বলেই মনে করছেন তাঁরা।
এই পক্ষের আরও যুক্তি, শুধু ইডেনেই তো কাজ হয়নি। আইপিএলের সময় রাজ্যের অন্য মাঠগুলিতেও স্থানীয় ক্রিকেটের নানা প্রতিযোগিতা চলেছে। সেখানকার মাঠকর্মীরাও অতিরিক্ত চাপ সামলেছেন। তাহলে তাঁদের বঞ্চিত করে শুধু ইডেনের কর্মীদের বেশি অর্থ দেওয়া হবে কেন? পুরস্কার বণ্টনে সমতা থাকা উচিত এমনটাই তাঁদের মত।
এই মতবিরোধ ক্রমশ জটিল আকার নিচ্ছে। ক্ষোভ জমারও শুরু। এরই মধ্যে নতুন বিতর্কে আরও একটি অভিযোগ। সিএবির অন্দরমহলের কেউ কেউ দাবি করেছেন, ইডেনের কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায় নাকি এই পুরস্কারের অর্থ থেকে নিজের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করেছেন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই তা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন সুজন। তিনি জানান, এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি কখনও এমন কোনও অর্থ চাননি।
আবার সুজনের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, ঘটনার আসল চিত্র নাকি সম্পূর্ণ উল্টো ! তাঁদের বক্তব্য, সিএবির এক কর্তাই নাকি সুজনকে বলেন নিজের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা রেখে বাকি অর্থ কাকে কত দেওয়া উচিত, তার একটি তালিকা তৈরি করতে। কিন্তু সুজন সেই প্রস্তাবে আগ্রহ দেখাননি। তাঁদের দাবি তিনি নিজের প্রাপ্য অর্থও মাঠকর্মীদের জন্য ছেড়ে দিতে পারেন। নিজের স্বার্থের আগে তাঁদের কথাই ভাবনায়।
ফলে গোটা পরিস্থিতি এখন প্রবল বিভ্রান্তির !
অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে আর মতবিরোধের জেরে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় সাধারণ মাঠকর্মীরাই।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী এক-দু’দিনের মধ্যে সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উদ্যোগে বৈঠক হওয়ার কথা। সেই বৈঠকে এই অচলাবস্থা কাটিয়ে সমাধানের পথ বের করার চেষ্টা হবে বলেই খবর। কিন্তু ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই মাঠকর্মীদের। কাদের বেশী পাওয়া উচিৎ, আপনাদের মতে ::

