চন্দন রুদ্র : কলকাতা, ২০ আগস্ট, ২০২৬। সমাজমাধ্যমে কতকিছু নিয়েই তো চর্চা হয়! সারা বছর ধরে আমরা কত রকম দিবসই না পালন করে থাকি। আজ নাকি বিশ্ব মশা দিবস। ভাবুন একবার, দুনিয়ার ক্ষমতবান মশা বাবাজীবনদের জন্যেও পুরো একটা দিন!
সারা পৃথিবীর সর্বত্রই ২০ অগস্ট দিনটি World Mosquito Day হিসেবে পালিত হয়। আজও হল। কিন্তু দিনটি ২০ অগস্টই কেন? আমরা কেউ জানি আবার কেউ জানি না। আসলে এর পেছনে রয়েছেন স্যর রোনাল্ড রস নামক এক ব্যক্তি। যিনি আমাদের এই কলকাতা শহরে বসেই ম্যালেরিয়া নামক এক মশাবাহিত রোগ নিয়ে গবেষণা করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।
আমরা জানি, আজকের এসএসকেএম হাসপাতাল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল হাসপাতাল হয়ে উঠেছিল তাঁর গবেষণার কেন্দ্রস্থল। তিনি দীর্ঘ গবেষণায় এটাই প্রমাণ করেছিলেন যে, স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা-ই ম্যালেরিয়ার ভাইরাস বহন করে।
মানুষের শরীরে মশার মাধ্যমে সেই ক্ষতিকর ভাইরাস প্রবেশের ফলেই ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টি হয়। অ্যানোফিলিস মশার অন্ত্রে ম্যালেরিয়ার পরজীবী আবিষ্কার করেন চিকিৎসক রস। আর সেই দিনটি ছিল ২০ অগস্ট, ১৮৯৭ সাল।
এই আবিষ্কারই তাঁকে ১৯০২ সালে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার এনে দেয়। ১৯৩০ সালে লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন মশাবাহিত রোগ নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে ২০ অগস্ট দিনটিকে বিশ্ব মশা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
এই দিনটি প্রতি বছর দুটি উদ্দেশ্য নিয়ে পালন করা হয়। একদিকে আবিষ্কর্তা রোনাল্ড রসকে স্মরণ করা অন্যদিকে ম্যালেরিয়া,ডেঙ্গি, চিকুনগুনিয়া, ফাইলেরিয়া, জাপানি এনকেফালাইটিসের মতো প্রাণঘাতী হয়ে ওঠা মশাবাহিত এই সব রোগ প্রতিরোধে মানুষকে বেশি করে সচেতন করে তোলা।
প্রসঙ্গত, রোনাল্ড রসের জন্ম কিন্তু ১৮৫৭ সালের ১৩মে ব্রিটিশ-ভারতের আলমোড়ায়। যে জায়গাটি আজকের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে অবস্থিত। আর মৃত্যু ১৯৩২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর লন্ডন শহরে। এই লন্ডন শহরেই রয়েছে তাঁর সমাধি।

