ডাঃ দীপালোক বন্দ্যোপাধ্যায় : কলকাতা।
ভাদ্র মাসের প্রথম দিনে
লাল মাটিতে সুর,
ফুলে ফুলে ভাদু সাজে,
হৃদয় করে ভরপুর।
পঞ্চকোটের রাজকন্যা
ভদ্রাবতী নাম,
অকালমৃত্যু কেড়ে নিল
বিয়ের স্বপ্নধাম।
বাবার চোখের অশ্রু হয়ে
রইল কন্যার স্মৃতি,
ভাদু হয়ে আজও সে যে
সবার প্রাণের প্রীতি।
ভাদু রে ভাদু, ঘরের মেয়ে,
তুই তো সবার প্রাণ,
তোরই নামে সন্ধ্যা নামে,
তোরই নামে গান।
মাটির ভাদু ফুলে সাজে,
মেয়েরা দেয় তালি,
হাসির মাঝে কান্না মেশে,
কত মনের জ্বালি।
শ্বশুরবাড়ির সুখ-দুঃখ,
পণের কত ব্যথা,
অভাব-অনটন, মনের কথা—
সবই গানে কথা।
ধানের ক্ষেতে সবুজ স্বপ্ন,
কৃষকের চোখে আশা,
বৃষ্টি দিও, শস্য দিও—
এই তো মাটির ভাষা।
ভাদ্র শেষে সংক্রান্তিতে
জাগে সারা রাত,
গানের সুরে ভাদু তখন
জড়িয়ে ধরে হাত।
পুকুরজলে বিসর্জনে
চোখে নামে বান,
জলে ভাসে মাটির ভাদু,
বুকে থাকে গান।
ভাদু রে ভাদু, হারাসনি তুই,
আছিস মাটির টানে,
মেয়ের হাসি, মায়ের অশ্রু,
ধানের সোনার গানে।
যতদিন এই রাঢ়ের মাটির
বুকে ফুটবে ধান,
ততদিনই ভাদু হয়ে
বেঁচে থাকবে প্রাণ।
ভাদু মানে কন্যার মায়া,
ভাদু মানে গান—
ভাদু মানে বাংলার মাটির
চিরন্তন প্রাণ।

