কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ৭ জুলাই, ২০২৬।।বারুইপুরের সূর্যপুরে ১১ বছরের একটি মেয়ের গণধর্ষণ ও নৃশংস খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি উত্তাল। ঘটনার প্রায় ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও শোক, ক্ষোভ এবং বিচার দাবির আবহে একের পর এক রাজনৈতিক প্রতিনিধি দল পৌঁছে যাচ্ছেন নির্যাতিতার বাড়িতে। মঙ্গলবার সকালে সেই তালিকায় যোগ দিল তৃণমূল কংগ্রেসের আরেকটি প্রতিনিধি দল। বিরোধী দল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে যান এলাকার সাংসদ সায়নী ঘোষ, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং শিউলি সাহা। তবে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করা এত সহজ ছিল না !
এলাকায় প্রবেশের মুখেই পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। কিছুক্ষণ ধরে পুলিশের সঙ্গে প্রতিনিধি দলের বাগবিতণ্ডা চলে। শেষ পর্যন্ত এলাকার নির্বাচিত সাংসদ হওয়ার কারণে শুধুমাত্র সায়নী ঘোষকে প্রথমে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে নেতৃবৃন্দও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
বাড়ির বাইরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন। এমন ভয়াবহ এবং হৃদয়বিদারক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসন ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য। আবেগঘন কণ্ঠে কাকলি বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। মনে হচ্ছে যেন আমার নিজের মেয়ের সঙ্গেই এই ঘটনা ঘটেছে। আমরা পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁদের আশ্বস্ত করেছি, সবরকমভাবে পাশে থাকব। দোষীদের কঠোরতম শাস্তিই আমরা চাই।”
সায়নী ঘোষও একই সুরে বলেন, শুধু ঘটনার নিন্দা করলেই হবে না, ঘটনার পরে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্য, “আমরা চাই এই ঘটনায় জড়িত প্রত্যেক অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজা হোক। কোনও অপরাধ ঘটার পরে সরকারের ভূমিকা কী, সেটাও মানুষের দেখা প্রয়োজন।”
তবে নির্যাতিতার বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার সময় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্থানীয়দের একাংশের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই তাঁকে এলাকা ছাড়তে হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে সোমবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে কালীঘাট তৃণমূলের প্রতিনিধি দল বারুইপুরে পৌঁছয়। সেই দলে ছিলেন সাংসদ দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল এবং বারুইপুর পশ্চিমের প্রাক্তন বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবরকম সহযোগিতা ও পাশে থাকার আশ্বাস দেন। একই দিন বিকেলে কলকাতার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি মোমবাতি মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়। সেই মিছিল থেকে নির্যাতিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি তোলা হয়।
বারুইপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনা আজ শুধু একটি অপরাধের তদন্ত নয়, গোটা সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দেওয়া এক নির্মম রূঢ় বাস্তব ! শোকাহত পরিবারের চোখে আজও অশ্রু শুকোয়নি। তাঁদের একটাই আর্তি রাজনীতি নয়, দ্রুত বিচার হোক। কারণ হারিয়ে যাওয়া ছোট্ট প্রাণটি আর কোনওদিন ফিরবে না, কিন্তু কঠোর শাস্তিই হয়ত ভবিষ্যতের কোনও নিরীহ মেয়ের জীবনকে এমন ভয়াবহ পরিণতি থেকে রক্ষা করতে পারবে।
ধর্ষণ যেই করুক বা যে সরকারের সময়ই ঘটুক, তা সবসময় কড়া শাস্তিযোগ্য হওয়া উচিৎ। তাই কাকলী ঘোষ দস্তিদার এবং সায়নী ঘোষকে একটা নিরীহ প্রশ্ন, এই ব্যাপারে আপনাদের কি মত ? দুই নেত্রীকেই একটা জিজ্ঞাসা, পার্ক স্ট্রিট কান্ড থেকে শুরু করে একের পর এক ঘটনা, তখন মনে হয়নি এই মেয়েটিও আমার মেয়ের মত ! বা, ঘটনা ঘটার পর সরকারের ভূমিকা কি ? এই সব জরুরী প্রশ্ন তুলেছিলেন কিনা, যদি অনুগ্রহ করে জানান, বিশেষ করে আর জি কর কাণ্ড, কসবা ল কলেজ, হাঁসখালি, কামদুনির পর ? আপনাদের কি মনে হয়, এই সব প্রশ্ন ওঁরা তুলেছিলেন, নাকি তখন মুখে কুলুপ আঁটা!

