অশোক রায় : অভিনেতা, চিত্রনাট্যকার ও কাহিনীকার। কলকাতা, ১৬ জুলাই, ২০২৬। আমাদের ঐতিহ্য গুলো নিঃশ্বাসের স্পন্দনে বেঁচে থাকুক। ‘যে বা যারা অথবা যা কিছু বিপন্ন’ – তার সংরক্ষণ ও বৃদ্ধি হলো ‘তরী’র মূলমন্ত্র।
AI ( কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) -চালিত প্রযুক্তির সাহায্যে সেবার পরিধি ও প্রভাবকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার এক অভূতপূর্ব উদ্যোগে সামিল হয়েছি আমরা। গত ভাষা দিবসে পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হয়েছে “তরী”।
‘নোয়া’ যেমন একদিন ‘আর্ক’ বানিয়ে প্রাণের মহাবিলুপ্তি থেকে জীবনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিল তেমন আমাদের ‘তরী’ সেই সমার্থক ভূমিকা পালনে ব্রতী হয়েছে। পৃথিবী যা কিছু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে, তা রক্ষায় তারা সচেষ্ট হবে।
“যে বা যারা -যা কিছু বিপন্ন” সে বিপন্ন জনগোষ্ঠী থেকে বিলীয়মান ঐতিহ্য; হুমকির মুখে থাকা জীবনধারা থেকে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি; স্তব্ধ কণ্ঠস্বর থেকে বিস্মৃত প্রথা, ভাষা থেকে আশা —যা কিছু সংকটাপন্ন, ‘তরী’ হোক তার একমাত্র রক্ষাকবচ।
গত ১৫ জুলাই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সঙ্গীত আকাডেমি’তে ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস’ উপলক্ষে সিম্ফনি ক্রিয়েশন নিবেদিত অনুষ্ঠানে যৌথভাবে নাচ গান চলচ্ছবি সহযোগে শিবাশ্রম অনাথ আশ্রমের ছেলেমেয়েদের – ‘মহারাজা তোমাকে সেলাম’ সত্যজিৎ রায়ের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য – নৃত্যনাট্য পরিবেশনের দক্ষতা উপস্থিত শ্রোতাবন্ধু ও দর্শকদের আপ্লুত করে। আমাদের ‘তরী’ বিশ্বাস করে নাচ-গান- অভিনয়ে প্রথাগত শিক্ষা পেলে এই অনাথশিশুর দল পৃথিবী জয় করবে। যে বা যারা অথবা যা কিছু বিপন্ন – তার সংরক্ষণ ও বৃদ্ধি হলো ‘তরী’র মূলমন্ত্র।
শেষ নিঃশ্বাসে থাকা ঐতিহ্যবাহী রেললাইন, কর্মঘণ্টার বাইরে পোষ্যদের জন্য সম্ভাব্য জীবন রক্ষাকারী জরুরি সেবা, পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য, কলকাতার নাগরিক ইতিহাস এবং আরও অনেক অনন্য প্রকল্প পরিচালনা করতে চলেছি আমরা। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা অ্যাসেট-লাইট মডেল ব্যবহার করে প্রকল্পগুলোকে প্রসারিত করার জন্য একটি সেতু হিসেবে কাজ করি। অ্যাসেট-লাইট মডেলে, আমরা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সফটওয়্যার, ব্র্যান্ড বা পরিচালন কৌশল তৈরি করে, বিভিন্ন বিপন্ন ক্ষেত্রসমীক্ষা করে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রযুক্তি, আউটসোর্সিং বা তৃতীয় পক্ষের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করি, যা এই পরিসেবার পরিধি বাড়ানোকে অনেক সহজ করে তোলে।
ভারতবর্ষের বাইরে আনুমানিক প্রায় ১৮ লক্ষের বেশী কৃতি ও স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় সন্তান রয়েছেন। তাদের সাথে যোগাযোগ গড়ে তুলছে তরী। তারাও অনেকেই একজন ভারতসন্তান হিসেবে সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে আসছেন। আমরা কাজের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ স্বচ্ছতা রেখে এগিয়ে চলেছি নবভারত গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। সব মিলিয়ে ‘”TORI” একটি অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি এবং এক সমাজসংস্কারময় উদ্যোগ। আর যুগে যুগে সমাজসংস্কার রেনেসাঁর পথ প্রশস্থ করেছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘তরী’ NGO.next এবং এর উত্তরসূরি Bengal.next নামক একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মে কাজ করে। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি তোরি/’तरी’ কে এখন এই মুহূর্তে এমনভাবে কার্যকর করে তুলেছে কয়েক বছর আগেও যা সম্ভব ছিল না। কয়েক বছর আগেও যা সম্ভব হয়নি কিন্তু আজ নবকলেবরে ট্রাম পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ যেমন শুধু ঐতিহ্য সংরক্ষণের চেষ্টা নয়, অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল ও পরিবেশগতভাবে সুস্থায়ী উন্নয়নের অভিমুখ ও পরিবর্তনের দিশা দেখাতে চায় তেমন তরীর ট্যাগলাইন ও তাই। ‘আমাদের ঐতিহ্য গুলো নিঃশ্বাসের স্পন্দনে বেঁচে থাকুক’। ‘যে বা যারা যা কিছু বিপন্ন’ তাকে সংরক্ষিত রাখার একটি সমাজকল্যাণমূলক প্রয়াস।
রাজনীতি ও অর্থনীতি সংস্কৃতিরই অংশ, এবং সমস্যার মূল নিহিত রয়েছে বাঙালি সভ্যতার ভিত্তির মৌলিক অবক্ষয়ে। একটি সত্যিকারের ‘একাত্ম’ পরিবর্তন আনতে ‘তরী’ র সাথে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দিন। একে অপরের হাত ধরে আসুন সমসময়ে এক নবজাগরণের শরিক হই।
পরিশেষে, তরীর অন্যতম ভাবনাকার আমার প্রবাসী বন্ধু শ্রী দেব ঘোষ, কবি, আবৃত্তিকার ঝর্ণা ভট্টাচার্য ও গায়ক সুরকার সৌম্য দাশগুপ্ত কে সাধুবাদ জানাই। সিম্ফনি ক্রিয়েশনের সকল টিম মেম্বারদের আর গৌরবময় উপস্থিতির জন্য আন্তর্জাতিক শর্টফিল্ম ফেস্টিভ্যালে-র চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী, ফেস্টিভ্যাল ডাইরেক্টর শাশ্বতী গুহ চক্রবর্তী, শিবাশ্রম অনাথ আশ্রম সেক্রেটারি সীতারাম সিনহা সহ আশ্রমের সকলকে এবং মর্ডান স্কুল সোসাইটির প্রিন্সিপাল শাশ্বতী শেঠ সহ উপস্থিত সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ধন্যবাদ।
#সৌম্য দাশগুপ্ত, গোপাল দেবনাথ, ঝর্ণা ভট্টাচার্য, সৌরভ চক্রবর্তী, শাশ্বতী গুহ চক্রবর্তী, শাশ্বতী শেঠ, সুমনা নায়েক, সোমনাথ লাহা, অর্ণব বিশ্বাস, সিম্ফনি ক্রিয়েশন।#

