কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ২০ আগস্ট, ২০২৬। খোদ রাজধানীতে যোগী স্টাইল অ্যাকশন ! দিল্লির পাক হাইকমিশনের বাইরে চলল বুলডোজার ! সীমানা পেরিয়ে বেআইনি নির্মাণের মাশুল ? নাকি ইসলামাবাদের চালের পাল্টা জবাব মোদী সরকারের ? বিতর্ক তুঙ্গে!
দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনকে ঘিরে বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য !
বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লির চাণক্যপুরী এলাকায় অবস্থিত পাক হাই কমিশন চত্বরের বাইরে হঠাৎই শুরু হয় বুলডোজার অভিযান !
অভিযোগ, সরকারি অনুমোদিত সীমানার বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে একাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এদিন সংশ্লিষ্ট জেসিবি মেশিন নিয়ে অতর্কিত অভিযান চালায় এবং একের পর এক অবৈধ কাঠামো গুঁড়িয়ে দেয়।
এই নজিরবিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই দেশের রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা ও উত্তেজনা ।
কি কি ভাঙ্গা হলো :
ভাইরাল ভিডিওতে চাঞ্চল্য:
বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, পাকিস্তান হাই কমিশনের মূল ভবনের বাইরে এবং বিশেষ করে ভিসা বিভাগের কাছে দীর্ঘদিন ধরে বেশ কিছু ব্যারিকেড, ধাতব রেলিং, লোহার গেট এবং শেড-সহ একাধিক অবৈধ কাঠামো তৈরি করে রাখা হয়।
তদন্তে দেখা যায়, এই নির্মাণগুলির একটি বড় অংশ সরকারি অনুমোদিত সীমানা লঙ্ঘন করে তৈরি করা হয়।
এই অভিযানের একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। ওই ভিডিওর সত্যতা আমরা যাচাই করিনি। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পাক হাই কমিশন চত্বরের বাইরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে ভাঙ্গা ধাতব রেলিং, লোহার কাঠামো, প্লাস্টারের টুকরো, কংক্রিটের ধ্বংসাবশেষ, ইট-পাথর এবং অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী। তবে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই অভিযানে পাকিস্তান হাই কমিশনের মূল ভবন কিংবা মূল প্রবেশপথের কোনও ক্ষতি করা হয়নি। সমস্ত পদক্ষেপ শুধুমাত্র অবৈধ নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
নেপথ্যে কি ইসলামাবাদের ঘটনার ‘বদলা’ :
জানা গিয়েছে, গত ১৭ আগস্ট পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের ভারতীয় হাই কমিশনের বাইরে নিরাপত্তার স্বার্থে রাখা ব্যারিকেড হঠাৎই সরিয়ে দেয় পাকিস্তান সরকার ! কেন সেই ব্যারিকেড সরানো হল, তার কোনও সন্তোষজনক বা যৌক্তিক ব্যাখ্যা ইসলামাবাদের তরফ থেকে দেওয়া হয়নি !
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। ঠিক সেই ঘটনার মাত্র তিন দিনের মাথায় দিল্লিতে পাকিস্তান হাই কমিশনের বাইরে সরকারি সীমানা লঙ্ঘন করে তৈরি হওয়া অবৈধ কাঠামো যেভাবে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল, তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা ও গুঞ্জন !
অনেকেই একে ভারতের পাল্টা ‘কূটনৈতিক জবাব’ হিসেবেই দেখছেন।
ইসলামাবাদের রহস্যজনক নীরবতা:
তবে এখনও পর্যন্ত এই বুলডোজার অভিযান নিয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি ! ইসলামাবাদ এই বিষয়ে রহস্যজনকভাবে নীরব থাকলেও ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের কড়া নজর।
দিল্লিতে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নাকি নেপথ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনেরও প্রভাব ? সেই প্রশ্নও বিভিন্ন মহলে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।
তবে সরকারি সূত্রের বক্তব্য, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই নিয়ম মেনে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে এই রুটিন অভিযান চালানো হয়।
ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের নিরাপত্তা সরানোর ঠিক ৩ দিনের মাথায় দিল্লিতে পাক হাইকমিশনের অবৈধ কাঠামো ভাঙ্গা হলো।
আপনারা কি মনে করেন এটা ভারতের জবাব ? নাকি শুধুই সাধারণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ ?

