কলকাতায় জটিল রক্তরোগের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন, বিশেষ সম্মান ডা. রজত ভট্টাচার্যকে…।

কলকাতায় জটিল রক্তরোগের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন, বিশেষ সম্মান ডা. রজত ভট্টাচার্যকে…।

Spread the love

বিশেষ প্রতিনিধিঃ কলকাতা, ৩ অক্টোবর, ২০২৬। লিউকেমিয়া-সহ বিভিন্ন জটিল রক্তরোগের চিকিৎসায় বোন ম্যারো বা অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। বিশেষ করে যেসব রোগীর ক্ষেত্রে স্বাভাবিক রক্তকণিকা তৈরির প্রক্রিয়া গুরুতরভাবে ব্যাহত হয়, তাঁদের চিকিৎসায় স্টেম সেল বা বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। তবে উপযুক্ত দাতা পাওয়া এবং রোগীর শরীরের সঙ্গে প্রতিস্থাপিত কোষের সামঞ্জস্য বজায় রাখা এই চিকিৎসার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সেই জায়গায় হ্যাপলো-আইডেন্টিক্যাল বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন চিকিৎসার গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে।

পূর্ব ভারতে হ্যাপলো-আইডেন্টিক্যাল বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকার স্বীকৃতি পেলেন বিশিষ্ট হেমাটোলজিস্ট, হেমাটো-অঙ্কোলজিস্ট ও বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিশেষজ্ঞ ডা. রজত ভট্টাচার্য। কলকাতার মহাজাতি সদনের অ্যানেক্স হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁকে ড. শচীপ্রসাদ ভট্টাচার্য স্মারক সম্মান ২০২৬ তুলে দেওয়া হয় তাঁকে।

পিকনিক গার্ডেন লীলা সেবা সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বোন ম্যারো চিকিৎসা এবং আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে তার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। পূর্ব ভারতে হ্যাপলো-আইডেন্টিক্যাল বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টের ক্ষেত্রে ডা. রজত ভট্টাচার্যের দীর্ঘদিনের কাজ ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়।

ডা.রজত ভট্টাচার্য বলেন,হ্যাপলো-আইডেন্টিক্যাল প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে পরিবারের এমন কোনও সদস্য, যাঁর সঙ্গে রোগীর অর্ধেক জেনেটিক মিল রয়েছে, তাঁর কাছ থেকেও স্টেম সেল নেওয়ার সুযোগ থাকে। ফলে সম্পূর্ণ জেনেটিক মিল থাকা দাতা না পাওয়া গেলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চিকিৎসার পথ তৈরি হতে পারে। পিকনিক গার্ডেন লীলা সেবা সোসাইটির সম্পাদক ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা.সৌম্য ভট্টাচার্য বলেন,এই পদ্ধতি বোন ম্যারো প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে দাতার সুযোগ আরও বাড়িয়েছে। যা বর্তমান সময়ে খুবই উপযোগী।

অনুষ্ঠানে ডা. রজত ভট্টাচার্য ড. শচীপ্রসাদ ভট্টাচার্য স্মারক বক্তৃতা ২০২৬ প্রদান করেন। বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন চিকিৎসার বিভিন্ন দিক, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর অগ্রগতি এবং এই ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞান নয়, নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চার আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যেও অনুষ্ঠানে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে আয়োজন করা হয় আন্তঃবিদ্যালয় বিজ্ঞান কুইজ প্রতিযোগিতা ২০২৬। বিজ্ঞানভিত্তিক এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা এবং গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি করার বার্তা দেওয়া হয়।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *