নেপালেও আসল হিরো ভারতীয়রাই…! 

নেপালেও আসল হিরো ভারতীয়রাই…! 

Spread the love

কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ৩০ আগস্ট, ২০২৬।  নেপাল-তিব্বত সীমান্তে প্রকৃতির প্রলয়ঙ্করী তাণ্ডবে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৬৭৫ ছাড়িয়েছে এবং প্রায় ২৫০০ মানুষ এখনও মাটির নিচে ও ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজ।

কিন্তু এই ভয়ঙ্কর ট্র্যাজেডির সবচেয়ে নির্মম আর বুক কাঁপানো দিকটি লুকিয়ে রয়েছে মাটির গভীরে।

পাহাড়ি এলাকার হাইড্রো-পাওয়ার বা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির আন্ডার-কনস্ট্রাকশন টানেল বা সুড়ঙ্গগুলো মুহূর্তের মধ্যে টন টন কাদা, পাথর আর বরফগলা জলে বুজে গিয়ে একেকটি জীবন্ত ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছিল। শত শত শ্রমিক মাটির নিচে সম্পূর্ণ অন্ধকার আর অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন।

 

মৃত্যুফাঁদে আটকে পড়া শ্রমিকদের আর্তনাদ!

পাহাড় ধসে তিব্বত সীমান্তের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলোর মুখ বন্ধ হয়ে যায়। তখন ভেতরে আটকে শয়ে শয়ে সাধারণ শ্রমিক। বাইরে তখন প্রকৃতির তাণ্ডব, আর মাটির নিচে ঘুটঘুটে অন্ধকার!

একদিকে ক্রমশ ফুরিয়ে আসা অক্সিজেন, অন্যদিকে সুড়ঙ্গের ভেতরে হুহু করে ঢুকতে থাকা বরফগলা ঠাণ্ডা জল আর কাদা।

বেঁচে থাকার আশা প্রায় শেষ, শ্রমিকরা মৃত্যুর প্রহর গুনছেন ! ঠিক তখনই সেখানে দেবদূতের মতো হাজির হয় ভারতের NDRF (National Disaster Response Force) এবং ভারতীয় সেনার উদ্ধারকারী দল।

 

ভারতীয় বীরদের ‘অপারেশন ডেথ টানেল’

খবর পাওয়া মাত্রই ভারত সরকার আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করেনি। নেপাল সরকারের আবেদনে সাড়া দিয়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ড্রিলিং মেশিন, লাইফ-ডিটেক্টর সেন্সর এবং উদ্ধারকারী দল নিয়ে সীমান্তে পৌঁছায় ভারতীয়রা।

 

অন্ধকারে আলো: মাইলের পর মাইল বিস্তৃত সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে কাদা ও পাথর সরানো ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ সামান্য ভুলেই পুরো পাহাড় ধসে পড়তে পারত।

 

অক্সিজেন জোগান: উদ্ধারকাজের পাশাপাশি পাইপের মাধ্যমে সুড়ঙ্গের ভেতরে দ্রুত অক্সিজেন ও তরল খাবার পাঠানোর ব্যবস্থা করে ভারতীয় ইঞ্জিনিয়াররা।

 

অদম্য সাহসিকতা: নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে, কর্দমাক্ত সুড়ঙ্গের গভীরে নেমে একের পর এক শ্রমিককে অক্ষত অবস্থায় টেনে বের করে আনেন ভারতীয় জওয়ানরা।

 

ভারত-নেপাল বন্ধুত্ব: বিপদের আসল বন্ধু ভারত। নেপালের এই কঠিনতম সময়ে ভারতীয় উদ্ধারকারীদের এই নিঃস্বার্থ লড়াই আবারও প্রমাণ করল—দেশ দুটির সীমান্ত আলাদা হলেও, বিপদের দিনে ভারত সবসময় নেপালের পাশেই থাকে। উদ্ধার হওয়া নেপালি ও স্থানীয় শ্রমিকরা চোখে জল নিয়ে ভারতীয় জওয়ানদের ধন্যবাদ জানান।

স্থানীয়দের মুখে এখন একটাই কথা—”ভারতীয়রাই আমাদের আসল হিরো!”

 

প্রকৃতির এই ভয়াবহ দুর্যোগে যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের প্রতি রইল আমাদের গভীর সমবেদনা এবং যারা এখনও নিখোঁজ, তারা যেন দ্রুত সুস্থ শরীরে ফিরে আসেন, ঈশ্বরের কাছে আমরা এই প্রার্থনাই করছি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *