কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ২১ জুলাই, ২০২৬। ২১ জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও তুঙ্গে ! গতকাল রাতে কালীঘাট তৃণমূলের মঞ্চ ভাঙ্গচুরের অভিযোগে নতুন করে বিতর্ক ! সোমবার গভীর রাতে ক্যাথিড্রাল রোডে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে তৈরি করা মঞ্চে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙ্গচুর করা হয় বলে অভিযোগ কালীঘাট তৃণমূলের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। ঘটনার পরই বিষয়টি আদালতের নজরে আনার সিদ্ধান্ত। মঙ্গলবার এই অভিযোগ নিয়েই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তাঁরা। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলার শুনানির সময় আদালত জানতে চায় এমন ঘটনা ঘটার পর পুলিশের পদক্ষেপ।
মঙ্গলবার আদালতে কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী অর্ক নাগ। তিনি জানান, সোমবার রাতেই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীকে ইমেল করা হয়েছে। পাশাপাশি, এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে আদালতের আগের নির্দেশের কথাও তুলে ধরা হয়। এরপর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের উদ্দেশে পর্যবেক্ষণে বলেন, কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেই বিষয়ে আগেই আদালতের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের উপরই ছিল। তাহলে সেই নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল ! বিচারপতি পুলিশের কাছে জানতে চান, অভিযোগ পাওয়ার পর কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তার বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবারের মধ্যেই এই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করার জন্য জয়েন্ট কমিশনার অফ পুলিশকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। ফলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতও যে কড়া নজর রাখছে, তা স্পষ্ট হয়ে যায়।
রাত ১১টা না নাগাদ খবর আসে, কালীঘাট তৃণমূলের মঞ্চে হামলা চালানো হয়েছে এবং ব্যাপক ভাঙ্গচুরও ! খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। ভাঙ্গচুর হওয়া মঞ্চের সামনেই দাঁড়িয়ে হ্যান্ড মাইকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, দুষ্কৃতীরাই এই হামলা চালিয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠানে যাতে আর কোনও বাধা সৃষ্টি না হয়, সেই কারণে তাঁরা রাতভর সেখানেই পাহারা দেবেন। তাঁর কথায়, একুশে জুলাই শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন। তাই কোনওভাবেই সেই অনুষ্ঠানে ব্যাঘাত ঘটতে দেওয়া হবে না।
মঞ্চ ভাঙচুরের এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের হস্তক্ষেপে এখন নজর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেও। তাই পুলিশ রিপোর্ট এবং তদন্ত কোন দিকে এগোয়, তার দিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।
স্বাভাবিক ভাবেই ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচির আগে এই ঘটনা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, তা বলাই যায়। তবে একটা কথা, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকবেই। তাই বলে এই ঘটনাও কি কাম্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ? আপনাদের কি মত ::

