‘বিশ্বাসঘাতকতা পেরিয়ে’ আন্দোলন: নারীদের জন্য আরও জোরালো আইনি সুরক্ষা ও সহায়তার দাবি…

‘বিশ্বাসঘাতকতা পেরিয়ে’ আন্দোলন: নারীদের জন্য আরও জোরালো আইনি সুরক্ষা ও সহায়তার দাবি…

Spread the love

বিশেষ প্রতিনিধিঃ কলকাতা, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬। দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন ও নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরে শ্রীমতী রিমঝিম জৈন দাম্পত্যে প্রতারণা, সম্পর্কের ভাঙন এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ থেকে তৈরি হওয়া বিবাদের মুখে পড়া নারীদের নানা প্রতিকূলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ ধরনের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় নারীদের পাশে দাঁড়াতে তিনি সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনের সুস্পষ্টতা এবং আরও বলিষ্ঠ সহায়তা ব্যবস্থার দাবি জানান।

 

শনিবার প্রেস ক্লাব কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জৈন জানান, একটি বৈবাহিক সম্পর্কে গুরুতর সংঘাত তৈরি হলে নারীদের কী ধরনের মানসিক, সামাজিক ও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। পাশাপাশি, দ্বিতীয় বিয়ে বা দাম্পত্যে অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে সত্য প্রমাণ করা এবং সঠিক আইনি প্রতিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে যে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়, সে বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন।

 

এই প্রসঙ্গে জৈন বলেন, “আমি আজ আপনাদের সামনে কেবল একটি ভাঙা সংসারের ভুক্তভোগী হিসেবে দাঁড়াইনি; দাঁড়িয়েছি এমন একজন নারী হিসেবে, যাকে আমাদের আইনি ব্যবস্থার কাঠামোগত ফাঁকফোকরগুলো পুরোপুরি ব্যর্থ করে দিয়েছে। স্বামী যখন অন্য কাউকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন কেন একজন স্ত্রীকে প্রমাণ করতে বাধ্য হতে হবে যে এতে তার কোনো দোষ ছিল না? যার পুরো পৃথিবীটা আইনি ও মানসিকভাবে চুরমার হয়ে গেছে, সেই নারীর কাছে এই বিচারব্যবস্থা কেন অজস্র প্রযুক্তিগত ও আইনি প্রমাণের পাহাড় দাবি করে?”

 

বিবাহ, পরকীয়া ও বহুবিবাহ সংক্রান্ত বর্তমান আইনি কাঠামো নিয়েও কথা বলেন জৈন। জটিল দাম্পত্য কলহের শিকার নারীদের জন্য তিনি আরও স্পষ্টতা ও সুরক্ষার দাবি জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সামাজিক কলঙ্কের ভয় কাটিয়ে নারীরা যাতে মন খুলে নিজেদের কথা বলতে পারেন, তার জন্য সঠিক আইনি পরামর্শ, মানসিক সমর্থন এবং একটি নিরাপদ মঞ্চের ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

 

নিজের এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে জৈন ‘হ্যাশট্যাগ বিশ্বাসঘাতকতা পেরিয়ে’ এবং ‘হ্যাশট্যাগ ঐক্যবদ্ধ স্ত্রীসমাজ’ বার্তার মাধ্যমে ‘বিশ্বাসঘাতকতা পেরিয়ে’ আন্দোলনের সূচনা করেন। দাম্পত্যে প্রতারণা বা এ জাতীয় সংকটের মুখোমুখি হওয়া নারীদের একত্রিত করতে এবং নিজেদের কথা নির্ভয়ে তুলে ধরতে উৎসাহিত করাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।

 

দাম্পত্য সম্পর্ক, নারীর মর্যাদা, আইনি সচেতনতা ও সুদৃঢ় সহায়তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনাকে আরও বিস্তৃত করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। পাশাপাশি, একই রকম পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়া নারীরা যাতে একে অপরের পাশে দাঁড়ান, উপযুক্ত সাহায্য চান এবং আরও স্বচ্ছ আইন ও জবাবদিহির দাবিতে সোচ্চার হন, সেই বার্তাই দেয় এই আন্দোলন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *