সৌভিক দত্ত : কলকাতা, ৩ নভেম্বর, ২০২৬। কিছু জায়গা শুধু ইট, কাঠ আর পাথর দিয়ে তৈরি হয় না, কিছু জায়গা তৈরি হয় হাজারো স্মৃতি, আবেগ, ভালোবাসা আর জীবনের অনেক গল্প দিয়ে। প্রত্যেক ছাত্রের জীবনে স্কুল তেমনই একটি বিশেষ জায়গা।
আজ সময়ের স্রোতে জীবনের অনেকটা পথ এগিয়ে এসেছি। জীবনের ব্যস্ততায় হয়তো স্কুলের সেই দিনগুলো থেকে অনেক দূরে চলে এলেও , কিন্তু মনটা আজও যেন পড়ে আছে সেই ছোটবেলার চেনা স্কুলের ক্লাসরুমে।
আজও মনে পড়ে স্কুলের সেই সকালগুলো, ইউনিফর্ম সাথে আমাদের সেই ব্যাচ পরে তাড়াহুড়ো করে স্কুলে পৌঁছানো, ক্লাসরুমের কোলাহল, শিক্ষকদের শাসন আর স্নেহমাখা বকুনি। মনে পড়ে যায় টিফিনের সময় বন্ধুদের সঙ্গে সকলে মিলে টিফিন ভাগ করে খাওয়া, একসাথে হলরুমে ফুটবল খেলা , স্কুলের বাইরে তপনদার হাতের সেই নানাবিধ স্বাদ , আরও কত না বলা গল্প।
স্কুল ছুটির শেষ ঘণ্টা বাজার অপেক্ষা—সবকিছুই আজ আমরা বন্ধুরা ভীষণ মিস করি। তখন বুঝতে পারতাম না এই সাধারণ দিনগুলোই একদিন জীবনের সবচেয়ে অসাধারণ স্মৃতি হয়ে উঠবে।
সেই প্রিয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কথা আজও মনে পড়ে, যারা শুধু বইয়ের পাঠ শেখাননি, শিখিয়েছেন জীবনের কঠিন পাঠও। তাদের শাসন, উপদেশ, আশীর্বাদ আর ভালোবাসা আমাদের আজকের মানুষ হয়ে ওঠার পথে অমূল্য অবদান রেখে গেছে।
সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে সেই বন্ধুদের, যাদের সঙ্গে এক বেঞ্চে বসে কত স্বপ্ন দেখেছি। হয়তো আজ সবাই নিজের নিজের জীবনে ব্যস্ত, কেউ কাছে আছে, কেউ অনেক দূরে, কিন্তু স্কুলজীবনের সেই বন্ধুত্ব আর একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো আজও হৃদয়ের এক বিশেষ জায়গায় রয়ে গেছে।
কালের নিয়মে স্কুল ছাড়তে হয়েছে, কিন্তু স্কুলের স্মৃতি নয়। সময় বদলেছে, জীবন বদলেছে, কিন্তু সেই দিনগুলোর প্রতি ভালোবাসা আজও একই রয়ে গেছে। গত ১ নভেম্বর রবিবার ছিল বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠান , শিক্ষকদের সাথে দেখা আর উপহার গুলো পেয়ে মন থেকে ভালোবাসা আর একরাশ নস্টালজিয়া নিয়ে বলতেই হয়—
আমি গর্বিত, আমি ফুলবাগানে ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জী ইনস্টিটিউশন এর একজন প্রাক্তন ছাত্র। এত সুন্দর একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ জানাতে হয় ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জী ইনস্টিটিউশন অ্যালুমনি এসোসিয়েশনের এর কর্মকর্তাদের।
–

