কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ১ জুলাই, ২০২৬। রাজ্যের বহু প্রতীক্ষিত অন্নপূর্ণা যোজনা অবশেষে বাস্তবের মাটিতে ! বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের অনুদান বিতরণের শুভ সূচনা ! ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি) ব্যবস্থার মাধ্যমে এক কোটি ৩৪ লক্ষেরও বেশি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অনুদানের টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, বুধবার রাতের মধ্যেই সমস্ত যোগ্য আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে টাকা। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে, কারণ তাঁরা প্রকল্পের নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করতে পারেননি। সরকারি অর্থ শুধুমাত্র প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তাদের কাছেই পৌঁছক, সেই লক্ষ্যেই এই কঠোর ঝাড়াই বাছাই।
বুধবারের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই প্রকল্প শুরু করার সময় সরকারের হাতে খুব বেশি সময় ছিল না। সেই পরিস্থিতিতেই গত ৩ জুন প্রথম দফায় ২৭ লক্ষেরও বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছিল। এরপর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রশাসনের আধিকারিকরা নিরলস পরিশ্রম করে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদন খতিয়ে দেখেছেন। প্রতিটি আবেদন যাচাই করে প্রয়োজনীয় তথ্য পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু দিনক্ষণ ঠিক করে দেয় না, বরং নিশ্চিত করে যে সরকারি অর্থ যেন প্রকৃত উপভোক্তার হাতেই পৌঁছায়। সেই কারণেই প্রতিটি আবেদন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করা হয়েছে।
বাছাই পর্বের পর দেখা যায়, প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদনকারী প্রকল্পের নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে পারেননি। ফলে তাঁদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকারি টাকা শুধুমাত্র যোগ্য আবেদনকারীরাই পাবেন। আমরা চাই না কোনও অযোগ্য ব্যক্তি এই প্রকল্পের সুবিধা নিন।” বক্তব্যের মাঝেই তিনি উপস্থিত উপভোক্তাদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, “এইটা কি ভুল?” সঙ্গে সঙ্গে গোটা নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম জুড়ে একসুরে উত্তর ভেসে আসে—“না”। সেই মুহূর্তে কার্যত স্পষ্ট হয়ে যায়, প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়টিকেই সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে।
গত কয়েকদিন ধরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে জল্পনা চলছিল, শেষ পর্যন্ত কতজন মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন। বাজেটে এই প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়েও বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছিল। তাঁদের অভিযোগ ছিল, বরাদ্দ সামান্য বাড়িয়ে সুবিধাপ্রাপকের সংখ্যা অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বুধবার সেই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বেলা ১টা নাগাদ প্রথম ধাপে ১ কোটি ৯ লক্ষ ৯২ হাজার ৩৭৮ জনের অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছে। এরপর পোর্টালে বাকি তথ্য আপলোডের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাত ১২টার মধ্যে আরও প্রায় ২৪ লক্ষের বেশি যোগ্য আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টেও টাকা পৌঁছে যাবে। সব মিলিয়ে এক কোটি ৩৪ লক্ষেরও বেশি মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা লাভ !
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এই বিপুল সংখ্যক উপভোক্তার মধ্যে তপশিলি জাতিভুক্ত মা-বোন-দিদিদের সংখ্যা ২৬ লক্ষ ৬৩ হাজার ৫৫৫ জন। তাঁদের কাছেও অনুদানের টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, উপযুক্ত আবেদনকারীদের কাউকেই বঞ্চিত করা হবে না। যদি কোনও যোগ্য ব্যক্তি এখনও আবেদন করতে না পেরে থাকেন, তবে তাঁদের জন্যও সুযোগ থাকছে। সরকার জানিয়েছে, জুলাই-আগস্ট মাসজুড়েও অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন গ্রহণ করা হবে, ফলে পরবর্তী পর্যায়েও নতুন আবেদনকারীরা এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন।
বিরোধীদের সমালোচনারও জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “অনেকে বলছিলেন, আগের সরকারের তুলনায় মাত্র এক হাজার কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ করে সুবিধাপ্রাপকের সংখ্যা অর্ধেক করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা একজন যোগ্য সুবিধাপ্রাপককেও বাদ দেব না। এই অনুদান কোনও দয়া নয়, এটি মানুষের অধিকার। সরকারের দায়িত্ব সেই অধিকার নিশ্চিত করা।”
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনায় এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৬০ লক্ষ মহিলা আবেদন করেছেন। যাচাইয়ের পর ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল হয়েছে, আর ১ কোটি ৩৪ লক্ষেরও বেশি যোগ্য মহিলার অ্যাকাউন্টে অনুদানের টাকা পাঠানো হচ্ছে। সরকার আরও জানিয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়া এখনও বন্ধ হচ্ছে না। আগামী কয়েক মাস ধরে আবেদন গ্রহণ চলবে, যাতে কোনও যোগ্য মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন। বুধবারের এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প নতুন গতি পেল বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
সবথেকে বড় কথা সরকারের টাকা নয়ছয় করার জন্য নয়। ঝাড়াই বাছাই পর্বে, আমরা পেয়েছি, কত (পুং) অন্নপূর্ণার সন্ধান ! বাদ যাননি বিদেশী অন্নপূর্ণারাও ! যতদূর জানি এই প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের জন্য। আমার প্রশ্ন কয়েকটি। এই ২৬ লাখ তাহলে কারা ! এরা পেলই বা কি ভাবে ! এও কি বড় মাথার খেল ?

