আলকা ইয়াগনিক: আমাদের মেয়েবেলার কণ্ঠস্বর…।

আলকা ইয়াগনিক: আমাদের মেয়েবেলার কণ্ঠস্বর…।

Spread the love

সুদীপা চৌধুরী : কলকাতা, ২৫ জুন, ২০২৬। আলকা ইয়াগনিক আমাদের  মেয়েবেলার কণ্ঠস্বর, আজ পদ্মভূষণে সম্মানিত।

ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল নাম আলকা ইয়াগনিক। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর কণ্ঠ অসংখ্য মানুষের প্রেম, আনন্দ, বিচ্ছেদ আর স্বপ্নের সঙ্গী হয়ে থেকেছে। সেই দীর্ঘ সঙ্গীতসাধনার স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি পেয়েছেন দেশের অন্যতম উচ্চ নাগরিক সম্মান পদ্মভূষণ।

তবে এই সম্মানের খবরের সঙ্গে আরেকটি বিষয়ও ভাবছি, বেশ কিছু মাস আগে শুনেছিলাম, তিনি একটি বিরল শ্রবণজনিত সমস্যায় (Sensorineural Hearing Loss) ভুগছেন। চলাফেরা করতেও হচ্ছে সমস্যা।

যে মানুষটি সারা জীবন কোটি মানুষের কানে সুর পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁর নিজের শ্রবণশক্তি নিয়ে এমন লড়াই সত্যিই বেদনাদায়ক। তবুও তাঁর দৃঢ়তা প্রমাণ করে, শিল্পীর শক্তি শুধু কণ্ঠে নয়, মনেও থাকে। সুস্থ হয়ে উঠুক তিনি এই প্রার্থনা করি।

৯০-এর দশকের আমাদের ছোটবেলা ও টিনএজের কত স্মৃতি যে জড়িয়ে আছে তাঁর গানে!

“চুরা কে দিল মেরা”, “বাজিগর ও বাজিগর”, “টিপ টিপ বরসা পানি”, “এক দিন আপ”, “পরদেশি পরদেশি”, “তাল সে তাল মিলা”, “কুছ কুছ হোতা হ্যায়”— এমন কত গান আজও শুনলে মনে হয় সময় যেন থমকে দাঁড়িয়েছে। ক্যাসেট প্লেয়ার, রেডিও, পাড়ার মাইক কিংবা দূরদর্শনের অনুষ্ঠান— সর্বত্রই ছিল তাঁর কণ্ঠের জাদু।

একটি প্রজন্মের হাসি-কান্না, প্রেম-অভিমান আর স্বপ্নের সঙ্গে মিশে থাকা সেই শিল্পীকে জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন।

সম্মান শুধু একজন গায়িকাকে নয়, সম্মান আমাদের সেই সোনালি নব্বই দশকের স্মৃতিকেও— যে স্মৃতির পেছনে ভেসে আসে আলকা ইয়াগনিকের মায়াময় কণ্ঠ। এই গানগুলো যেন চিরদিনের কখনো পুরানো হয় না।

 

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *