নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা, ১৮ জুলাই, ২০২৬। তপশিল জাতি আদিবাসী প্রাক্তন সৈনিক কৃষি বিকাশ শিল্প কেন্দ্র, ধনিয়াখালী হুগলির এই সংস্থা সুদীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নমূলক কাজ করে চলেছে। বিগত সরকারের অদূরদর্শীতায় সংস্থা কোনো সহযোগিতা পায়নি বলে অভিযোগ করলেন সংস্থার সম্পাদক সৌমেন কোলে। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল সরকারের বঞ্চনার কারণে উন্নয়ন বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও সংস্থা নিজের একক প্রচেষ্টায় উন্নয়নের অগ্রগতিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন সংস্থার কর্মীরা। বর্তমানে রজ্যে সরকারের পরিবর্তন হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মেল বন্ধনে ডাবল ইঞ্জিন সরকার নতুন ভাবনায় কাজ শুরু করেছে। আগামী দিনে বর্তমান সরকার এই সংস্থার উন্নতিতে প্রয়োজনীয় সাহায্যে এগিয়ে আসবে বলেই আমাদের আশা। এব্যাপারে রাজ্যের আদিবাসী কল্যাণমন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু আশ্বাস দিয়েছেন। এদিন অনিবার্যকারণবশত মন্ত্রী উপস্থিত না থাকলেও সংগঠনের কর্মীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। খুব শীঘ্রই সংগঠনের পরবর্তী সভায় উপস্থিত থেকে রাজ্যের তরফে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।‘
তপশিল জাতি আদিবাসী প্রাক্তন সৈনিক কৃষি বিকাশ শিল্প কেন্দ্র, সংস্থার সাথে যুক্ত বহু প্রান্তিক মানুষ। সংস্থার সম্পাদক সৌমেন কোলে বুধবার কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, ‘রাজ্যের উন্নয়নে বর্তমান সরকার এই সমস্ত মানুষদের কাজের সুযোগ দেবে। ২০১৫ সাল থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে আসা চিঠিকে কোনো গুরুত্বই দেয় নি নবান্নের আধিকারিকরা। বিজেপি সরকার বর্তমানে সব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। এর ফলে সংস্থার কর্মীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারাও উৎসাহ নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। ‘রাজ্যের সঙ্কটজনক পরিস্থিতি কাটিয়ে সংগঠন আবার নিজের লক্ষ্যে পৌঁছানোর নতুন সংকল্প নিয়েছে। এবার ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। আগামী আগস্ট মাস থেকে সংস্থার কর্মীরা নতুন উদ্দীপনা নিয়ে কাজ শুরু করবে ও বৃহত্তর প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করবে।কাজ শুরু হওয়ার সাথে সাথে কর্মীদের অর্থনৈতিক ভাবে সাবলম্বী হবার জায়গাটিও পরিষ্কার হয়ে গেছে ।
প্রসঙ্গত, তপশিল জাতি আদিবাসী প্রাক্তন সৈনিক কৃষি বিকাশ শিল্প কেন্দ্র, হুগলির ধনিয়াখালি অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল। এই সংস্থা গত চল্লিশ বছর ধরে প্রান্তিক মানুষকে সঙ্গে নিয়ে নানা কাজকর্ম করে চলেছে। যাদের মধ্যে অন্যতম মিশ্র কৃষিকাজ , প্রাকৃতিক কৃষি, মৎস্য চাষ, জৈব চাষ, লাক্ষা চাষ, ভার্মি কম্পোজ, পশু-পালন, মৌমাছি পালন,গো পালন ,ন্যানো বাবুল ট্রেকনোলেজি (N.B.T)মাধ্যমে বিভিন্ন চাষ সৌরশক্তি সহ আরও অনেকে কাজের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও এবং স্বচ্ছ ভারত অভিযান প্রকল্পও কাজ করেন। আগামী দিনেও রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় সরকারি নানা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করার শপথ নিয়েছে।

