ধর্মে আছো জিরাফেও আছো কাব্যগ্রন্থ…।

ধর্মে আছো জিরাফেও আছো কাব্যগ্রন্থ…।

Spread the love

ডাঃ দীপালোক বন্দ্যোপাধ্যায় : কলকাতা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬। আধুনিক বাংলার অন্যতম শক্তিমান কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের এই কাব্যগ্রন্থের একটি কবিতার প্রথম লাইন ” ধর্মেও আছি জিরাফেও আছি” এত জনপ্রিয় যে কথাটি প্রবাদ বাক্য হয়ে দাঁড়িয়েছে ৷ ধর্মে বিশ্বাস করেও আধুনিকতাকে খোলামনে স্বীকার করা কিংবা ‘ধর্ম ও বাস্তব জগতের মধ্যে সম্বন্ধের প্রকাশ এই কথাটি ৷ ৮৫টি কবিতার বইটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৬৫ সালে অক্টোবরে অর্থাৎ আশ্বিন ১৩৭২ বঙ্গাব্দে ৷

কবি যেহেতু বইটি উৎসর্গ করেছেন ‘আধুনিক কবিতার

দুর্বোধ্য পাঠকদের হাতে ‘ ৷ তাই , মন দিয়ে পড়তে কিছু দিন সময় লাগালো ৷ আসলে আমরা জানি জয়পুরের মহারাজা প্রথম সেদেশে লম্বা গলার জিরাফ প্রথম আনলে কিছু ঈর্ষান্বিত লোক রটিয়ে দেয় কোন ধর্মের গ্রন্থে এমন অদ্ভূত প্রাণীর কথা যেহেতু নেই ৷ সুতরাং তা ঈশ্বরের নয় শয়তানের সৃষ্টি ৷ যা দেখাও পাপ ৷ দেখলে নরক বা দোজখ নিশ্চিত ৷ তবু , নতুনত্বের প্রলোভনে ধীরেধীরে কিছু কিছু করে দর্শনার্থী জিরাফ দেখতে আসতে থাকে ৷ এতে অনেকে তাদের বলতে থাকে এরা প্রকাশ্যে ধর্ম করে আর গোপনে জিরাফ দেখতে ভীড় জমায় ৷ তা থেকে ঐ কথাটির উৎপত্তি ৷ শক্তিদার এই কাব্যটির প্রতি কৌতুহল ও অন্বেষা ষাট বছর পরেও ক্লান্তিহীন ৷ মৃত্যু ভাবনা তাঁর কাছে স্তিমিত হয়ে জীবনবোধ জয়যুক্ত হয়েছে ৷ বেদনার প্রকাশ ঘটেছে শিল্পসম্মত ভাবে ৷ তাঁর কবিতা আমাদের নিয়ে যায় যৌবনে ৷ সাংবাদিকতা ও চিকিৎসক পেশার ফাঁকে যা আমাকে আন্দোলিত করে ৷ অহংকার হয় একজন বাঙালি হিসাবে ৷

মানুষ ধর্মে ও অধর্মে কিংবা তেতো বা মিষ্টি দুই পরস্পর বিপরীত জিনিসকে একসাথে সমর্থন করে ৷ অপরিবর্তনীয় ধর্ম আর বিবর্তনবাদ তথা পরিবর্তনের প্রতীক জিরাফ দুই তত্ত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করে ৷ ধর্মীয় অনুশাসন মেনেও তারা সুবিধাবাদী কাজের সঙ্গে জড়িত থাকে ৷ যাহোক বাংলা ভাষার শব্দ ও বাক্য গঠনে এবং সমাজের নানা দিক থেকে জীবনের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরায় তিনি অনবদ্য ৷ গত শতকের ষাটের দশকের যে চার জন কবিকে হাংরি আন্দোলনের স্থপতি বলা হয় তিনি তার অন্যতম ৷ জীবনানন্দ পরবর্তী বাংলা কবিতা ক্ষেত্রে তাঁর নাম প্রথম দিকে করতে হয় ৷ তাঁর ‘অবনী বাড়ী আছো ‘ কিংবা ‘যেতে পারি , কিন্তু কেন যাবো ‘ তাঁর কথায় ‘পদ্যগুলি ‘ এক সময় আমাদের মুখে মুখে ফিরতো ৷ বর্ষামুখর রাতে আজও স্মতিতে আনচান করে ,’ বৃষ্টি পড়ে এখানে বারোমাস / এখানে মেঘ গাভীর মতো চরে / পরাঙ্মুখ

সবুজ নালিঘাস / দুয়ার চেপে ধর – / অবনী বাড়ী আছো ‘৷ যেমন “ধর্মে আছো জিরাফেও আছো” কাব্যগ্রন্থের ‘প্রেম’ কবিতার মত তাঁর কবিতা থেকে বলি -‘ অবশ্য রোদ্দুরে তাকে রাখবো না / আর ভিনদেশী গাছপালার ছায়ায় ঢাকবো না / আর তাকে শুধুই বইবো বুকের গোপন ঘরে ‘..৷ অতুলনীয় শক্তিদা ও তাঁর কবিতা !

 

 

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *