বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র  প্রতি শ্রদ্ধা নতুন সরকারের….।

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র প্রতি শ্রদ্ধা নতুন সরকারের….।

Spread the love

কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং মনীষীদের স্মৃতিকে আরও যত্নে সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত রাজ্যের বিজেপি সরকারের। মহালয়ার অবিচ্ছেদ্য কণ্ঠ বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জন্মদিনে তাঁর স্মৃতিকে চিরস্থায়ী করে রাখতে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব সামনে আনলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন, উত্তর কলকাতার শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের নামে করা হোক। শুধু তাই নয়, শ্যামবাজারের ৩০বি, রামধন মিত্র লেনের ঐতিহাসিক বাড়িটিকেও ‘হেরিটেজ’ বা ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে ঘোষণা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আজ বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জন্মদিন। এতদিন এই দিনটি সরকারি উদ্যোগে বিশেষভাবে পালনের তেমন কোনও নজির ছিল না। তবে প্রায় দু’মাস আগে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বাংলার শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরার লক্ষ্যে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। আজ তাই তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে শ্যামবাজারের বাড়িতে পৌঁছে যান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বিশাল বাড়ির জৌলুসও অনেকটাই ফিকে। বর্তমানে সেখানে হাতে গোনা কয়েকজন বাসিন্দা। বয়সের ভারে জরাজীর্ণ হয়ে পড়া এই বাড়িটির সংরক্ষণ উদ্যোগ অত্যন্ত শুভ উদ্যোগ, সন্দেহ নেই। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান অগ্নিমিত্রা পাল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও মিলিত হন। কথা বলেন তাঁর পুত্রবধূ সুস্মিতা ভদ্রের সঙ্গেও। শোনেন নানা স্মৃতিচারণও। সংক্ষিপ্ত ভাষণে তিনি বলেন, এমন একজন কিংবদন্তি শিল্পীর স্মৃতিকে আরও মর্যাদার সঙ্গে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। সেই কারণেই তাঁর প্রস্তাব, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের বাড়িটিকে হেরিটেজ ঘোষণা করা হোক এবং নিকটবর্তী শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে তাঁর নামেই রাখা হোক। তাঁর এই প্রস্তাব উপস্থিত সকলের কাছেই প্রশংসিত হয় এবং অনেকেই মনে করেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলা সংস্কৃতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যোগ হবে।

কলকাতার মেট্রো স্টেশনগুলির সঙ্গে বাংলার বিশিষ্ট মনীষীদের নাম জুড়ে দেওয়ার ঐতিহ্য নতুন নয়। মহানায়ক উত্তম কুমার, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কিংবা কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মতো বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের নামে ইতিমধ্যেই অনেক মেট্রো স্টেশনের নাম। কোথাও নতুন স্টেশনের নামকরণ হয়েছে, আবার কোথাও পুরনো স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে তাঁদের স্মৃতিকে সম্মান জানানো হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনের নাম যোগ হলে, তা হবে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি আরও এক অনন্য সম্মান।

বাংলার অন্যান্য মনীষীদের স্মৃতি সংরক্ষণেও উদ্যোগী বর্তমান রাজ্য সরকার। মন্ত্রী জানান, বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও গৌরবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পুরনো বাসভবনগুলিকেও আস্তে আস্তে হেরিটেজ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হুগলির বাড়ি ইতিমধ্যেই ঘোষিত। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের বাড়ি।

বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আগামী প্রজন্মের কাছে আরও ভালভাবে তুলে ধরার এই প্রয়াস ধন্যবাদযোগ্য। তবে এখন দেখার প্রস্তাবগুলি কত দ্রুত দিনের আলো দেখে তা দেখার। একটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরছে, এই প্রস্তাব কি বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ধ্বংসের চেষ্টা !

 

 

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *