‘মুখোমুখি’ পুরমন্ত্রী….।

‘মুখোমুখি’ পুরমন্ত্রী….।

Spread the love

কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ২৭ জুন, ২০২৬।  রাজ্যের পৌর এলাকার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত, স্বচ্ছ এবং সরাসরি সমাধান করতে এক অভিনব উদ্যোগ রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের। এই নতুন কর্মসূচির নাম ‘মুখোমুখি’। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তাঁদের সমস্যা, অভিযোগ কিংবা অভাবের কথা জানাতে পারবেন। সম্প্রতি আসানসোলে ইসিএলের একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই নতুন কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন পুরমন্ত্রী।

মন্ত্রী জানান, আগামী ৪ জুলাই থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (কেএমসি) এর এলাকা দিয়ে এই উদ্যোগ শুরু করা হচ্ছে। প্রতি শনিবার দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত কেএমসি এলাকার বাসিন্দাদের জন্য নির্দিষ্ট ফোন লাইন খোলা থাকবে। ওই সময়ের মধ্যে কলকাতার নাগরিকরা জল সরবরাহ, রাস্তার সমস্যা, নিকাশি ব্যবস্থা, আলো, পরিচ্ছন্নতা কিংবা অন্য যেকোনও পুর পরিষেবা সংক্রান্ত অভিযোগ বা সমস্যার কথা সরাসরি পুরমন্ত্রীকে জানাতে পারবেন।

তবে শুধু কলকাতাতেই এই উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে রাজ্যের অন্যান্য সমস্ত মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনও এই কর্মসূচির আওতায় আসবে। আসানসোল, শিলিগুড়ি, হাওড়া, বিধাননগর এবং চন্দননগর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের জন্যও বরাদ্দ, সপ্তাহের আলাদা আলাদা দিন ও সময়। খুব তাড়াতাড়ি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এই সূচি প্রকাশিত হবে।

এই কর্মসূচি কীভাবে পরিচালিত হবে, সেই বিষয়েও বিস্তারিত জানান পুরমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্ধারিত দিনে তিনি নিজে কলকাতার দপ্তরে উপস্থিত থাকবেন। তাঁর সঙ্গে থাকবেন সংশ্লিষ্ট মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের আধিকারিক এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরাও। তবে দূরত্বের জন্য শিলিগুড়ি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের আধিকারিকরা অনলাইনের মাধ্যমে বৈঠকে যুক্ত থাকবেন। তবে বাকি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সশরীরে কলকাতার দপ্তরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ ! মন্ত্রীর কথায়, তাহলে অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

প্রতি সপ্তাহে এক থেকে দেড় ঘণ্টার এই লাইভ ফোন-ইন কর্মসূচিতে নাগরিকরা সরাসরি তাঁদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। মন্ত্রীর আশ্বাস, ফোন আসা মাত্রই সমস্ত তথ্য নথিভুক্ত করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও। তবে অভিযোগ গ্রহণ করেই দায়িত্ব শেষ হবে না ! অভিযোগকারীকে তাঁর মোবাইল নম্বরে বার্তা পাঠিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে, তাঁর অভিযোগটি সরকারি নথিতেও অন্তর্ভুক্ত। সমস্যার সমাধানের কাজ চলতে থাকবে। সংশ্লিষ্ট নাগরিকের সমস্যা না মেটা পর্যন্ত প্রশাসনের নজরদারিও চলবে অভিযোগের ওপর।

পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কথায়, সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের মধ্যে আরও বেশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। মানুষের অভিযোগ শুনে তা দ্রুত সমাধান করে নাগরিক পরিষেবাকে আরও কার্যকর ও মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের এই নতুন উদ্যোগ ‘মুখোমুখি’।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং মেয়রও লাইভ ফোন ইন চালু করেছিলেন ! শুনেছি, সেই ফোন নাকি বেশিরভাগ সময় পাওয়াই যেতনা ! সবসময় ব্যস্ত ! অনেকে মজা করে বলতেন, দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা ওই ফোন থেকে মাসি পিসির সঙ্গে গল্প করেন ! কারুর কারুর মতে, প্রেমও হতে পারে ! আমরা অবশ্য, এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করিনি। তবে আশা করব, এবার মন্ত্রীকে সাধারণ নাগরিকরা প্রাণ খুলে অভিযোগ জানাতে পারবেন। আপনাদের কি মনে হয় অবস্থা বদলাবে !!

 

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *