প্রিয়রঞ্জন কাঁড়ার : কলকাতা, ৩ মে, ২০২৬। শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের “যত মত, তত পথ” বাণীর সম্পূর্ণ অর্থ হৃদয়ঙ্গম করতে অপারগ অনেকেই এই বাণীটিকে নিয়ে বক্রোক্তি করেন। সধুক্কড়ী বা পঞ্চমেল খিচড়ী ভাষায় অনুলিখিত সন্ত কবীরদাসের অনেক দোহা ও পদের সঙ্গে শ্রীশ্রীমা সারদা দেবীর মুখ-নিঃসৃত অনেক বাণীর অত্যাশ্চর্য অর্থগত ঐক্য ঠাকুরের ওই মূল বাণীটিকেই প্রতিষ্ঠিত করে। ‘কবীর গ্রন্থ’-এর বহু দোহা ও পদ এক্ষেত্রে আলোচ্য হতে পারে। আমি শুধু একটা উদাহরণ দেবো। শ্রীমা বলেছিলেন, “যদি শান্তি চাও, মা, কারও দোষ দেখো না, দোষ দেখবে শুধু নিজের।” উল্টো দিকে সন্ত কবীরের একটি দোহার আধুনিক সরল হিন্দি অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “জো দূসরো কে দোষ দেখনা চাহতা হ্যায়, উসকো কোঈ বুরা মিলতা নহী, লেকিন জো অপনে হী দিল মে দোষ খোজতা হ্যায়, উসকো মালুম হোতা হ্যায় কি ‘মুঝ-সা’ বুরা কোঈ নহী।” এমন দুই সাধক ও সাধিকা এক্ষেত্রে বোধের এই ঐক্যে উপনীত হয়েছেন, যাঁদের সাধন মার্গ সম্পূর্ণ ভিন্ন। একদিকে সন্ত কবীরদাস হিন্দি সাহিত্যের ভক্তিকালের “নির্গুণ” ধারার জ্ঞানমার্গী শাখার শ্রেষ্ঠতম কবি, অন্যদিকে ঠাকুর ও মা সহ সম্পূর্ণ রামকৃষ্ণ ভক্তি আন্দোলন গড়ে উঠেছিল “সগুণ” ধারাকে আঁকড়ে ধরে! কবীর অবতারবাদ মানেননি, অন্যদিকে রামকৃষ্ণ দেবকেই স্বয়ং অবতার রূপে ধরা হয়। আমি নিজে কবীরেরও ভক্ত, রামকৃষ্ণেরও ভক্ত। ভবিষ্যতে এই বিষয়ে আরও লেখার ইচ্ছে আছে।

