সুদীপা চৌধুরী: মেদিনীপুর, ৯ মে, ২০২৬। শ্রীমতি মধুমন্তী মৈত্র একসময় দূরদর্শনের পর্দায় তাঁর সংবাদ পাঠ যেন নিছক খবর পরিবেশন ছিল না—মনে হতো যেন শব্দের ভেতর দিয়ে কবিতা বয়ে যাচ্ছে। বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষাতেই তাঁর উচ্চারণের সেই স্বচ্ছতা, সেই মাধুর্য, সেই অনায়াস সৌন্দর্য আজও যেন একই রকম অমলিন।
মেট্রোর ঘোষণায় তাঁর গলা শুনতে পেয়ে নস্টালজিক হয়ে পড়ি যাওয়া আসার পথে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার সঞ্চালনা শুনেছি। তবে আজ প্রায় অনেকদিন পর তাকে আবার যেন নতুন করে পেলাম তার কন্ঠের মাধ্যমে।
আজ এতদিন পরে শ্রদ্ধেয় মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে হঠাৎ সেই পরিচিত সুললিত কণ্ঠ ফিরে পেয়ে মনে হলো, সময় যেন একটু থেমে গেছে।
কণ্ঠে আজও একই স্থিরতা, একই আভিজাত্য— সেই মাধুর্য।
আমাদের ছোটবেলার এক টুকরো মুগ্ধতাও যেন ফিরে এলো সঙ্গে করে। খবর পড়ার সময় তাঁর চোখে কাজল পরার সেই নিজস্ব সৌন্দর্য, সেই ব্যক্তিত্ব—কতবার যে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নকল করার চেষ্টা করেছি! মাঝেমধ্যে তিনি চুলটা খুলে রেখে আসতেন খবর পড়তে। তিনি যেদিন খবর পড়তেন সেদিন পুরো খবরটা শুনতাম, শুধু তাকে দেখার জন্য। সেই সময় সাদা-কালো টিভিতেও তিনি অপরুপা।
সেই সময়ে সংবাদ পাঠিকারা শুধু খবর পড়তেন না, তারা ছিলেন একেকজন রুচি, ভাষা আর ব্যক্তিত্বের বিদ্যালয়।
২৫শে বৈশাখের আবহে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান তাই শুধু রাজনৈতিক কোনো মুহূর্ত হয়ে থাকল না—এ যেন হঠাৎ করেই ফিরে পাওয়া এক টুকরো শৈশব, এক হারিয়ে যাওয়া টেলিভিশন যুগের কোমল নস্টালজিয়া।।

