সাত পুরুষ শাস্তি মনে রাখুক অভিযুক্তরা…।

সাত পুরুষ শাস্তি মনে রাখুক অভিযুক্তরা…।

Spread the love

কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ২৫ জুলাই, ২০২৬। নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সমর্থনে কলকাতার ধর্মতলায় হওয়া মিছিল ও জমায়েত ঘিরে অশান্তি বিশৃঙ্খলা সাংবাদিকদের ওপর হামলার ছবি কাল দেখেছে কলকাতা ! এবার তা নিয়ে বিধানসভায় কড়া অবস্থান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। এই সব অভিযোগের বিরুদ্ধে এবার গুন্ডাদমন আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা করলেন তিনি।

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “এমন ব্যবস্থা করা হবে, সাত পুরুষ মনে রাখবে।”

শুক্রবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখনও পর্যন্ত ধর্মতলার বিশৃঙ্খলার ঘটনায় মোট ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এঁদের মধ্যে একজনও ছাত্র নন, এমনকি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সদস্যও নন ! আন্দোলনের ভীড়ে বহিরাগতরা ঢুকে পড়ে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি সৃষ্টি করেছে বলেই অভিযোগ তাঁর।

এই ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই মোট সাতটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। তার মধ্যে হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছয়টি এবং এন্টালি থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একাধিক মামলা করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা পতাকা, ব্যানার এবং বিভিন্ন গাড়ি নিয়ে রাস্তা দখল করতে শুরু করে। ডোরিনা ক্রসিং পুরোপুরি দখল করার জন্য জনতাকে উসকানি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ! বারবার মাইকিং করে জমায়েতকে বেআইনি ঘোষণা করা হলেও এবং এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা মানেননি বিক্ষোভকারীরা। বরং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে !

পুলিশের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে জলের বোতল, জুতো, লাঠি ও পাথর ছুড়তে শুরু করে। শুধু পুলিশই নয়, ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া সাংবাদিকদেরও হেনস্থা করা হয়। এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলিতে বেআইনি জমায়েত, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া, তাঁদের মারধর, রাস্তা অবরোধ, অশান্তি সৃষ্টি, সরকারি নির্দেশ অমান্য করা, উস্কানি ও বিদ্বেষ ছড়ানোর মতো একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, প্রকৃত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নয় তাদের বিরুদ্ধেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ধর্মতলার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ হয়েছে। আমি এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেছি। ককরোচ মার্চের ব্যানারে কর্মসূচি ডাকা হয়েছিল। পুলিশকে আগে থেকেই নির্দেশ দেওয়া ছিল, কোনও অবস্থাতেই বলপ্রয়োগ করা যাবে না। কারণ আন্দোলন করা গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে কিছু মানুষ অশান্তি সৃষ্টি করেছে।”

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নিজেরাও জানিয়েছে, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের বহু কর্মী সেখানে ঢুকে পড়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এসএফআই, ডিওয়াইএফআই, ডিএসও, এআইএসএফ-সহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা অনেকেই ছাত্র নন এবং নিট প্রশ্নফাঁস আন্দোলনের সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্কও নেই। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, ভোটে পরাজিত কিছু রাজনৈতিক শক্তির লোকজন রাজাবাজার, খিদিরপুর, পার্ক সার্কাস, গার্ডেনরিচ এবং নিউটাউন-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে আন্দোলনের মধ্যে মিশে গিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এই বিশৃঙ্খলা পূর্বপরিকল্পিত। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের একাংশ চাইছিল পুলিশ লাঠিচার্জ করুক, কাঁদানে গ্যাস ছুড়ুক, যাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে রাজনৈতিক নাটক তৈরি করা যায়। কিন্তু পুলিশ অত্যন্ত সংযমের পরিচয় দেয় এবং সেই ফাঁদে পা দেয়নি। তবুও হামলা চলতে থাকে। এই ঘটনায় কয়েকজন সাংবাদিক সামান্য আহত হলেও ছ’জন সাংবাদিক গুরুতর জখম বলে তিনি জানান।

তিনি চারজন অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজাবাজারের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিন, একবালপুরের তানভির এবং ওয়াটগঞ্জের রাহুল জামাল এদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা তাদের তিন পুরুষ মনে রাখবে।”

একই সঙ্গে তিনি বিরোধীদেরও আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, এক সিপিএম নেত্রী আগেই আন্দোলনকারীদের জলের বোতল সঙ্গে নিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কারণ পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে পারে। পরে সেই জলের বোতলই পুলিশের দিকে ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ডিম ছোড়া যেমন বাংলার সংস্কৃতি নয়, তেমনই বোতল বা জুতো ছুড়ে প্রতিবাদ করাও বাংলার সংস্কৃতি হতে পারে না। সাংবাদিকদের হেনস্থা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, শনিবার দুপুরে আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে বিজেপি বিধায়করা বুকে কালো ব্যাজ পরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, আন্দোলনের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না। ধর্মতলার সেই অশান্তির রেশ এখন শুধু রাজপথেই নয়, পৌঁছে গিয়েছে বিধানসভার অন্দরেও। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাত কি এবার নতুন মাত্রা পেল ?

আন্দোলনের মূল ফোকাস কি আজ কিছুদিনই প্রশ্ন ফাঁসের ছিল ! নাকি হয়ে উঠছিল আজাদ কাশ্মীর, ৩৭০ ধারা ফিরিয়ে আনার !

 

 

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *