” আত্মা ” ( SOUL )/ ” রুহ” !
ডাঃ দীপালোক বন্দ্যোপাধ্যায় : কলকাতা, ১২ জুলাই, ২০২৬।
আমরা স্বর্গ সুখ চাই ৷ স্বর্গে যেতেও আগ্রহ কম নয় ৷ কিন্তু , কেউ মরতে চাই না ৷ যদিও সবাই জানি মরণ অবশ্যম্ভাবী ৷ সমস্ত প্রাণীই মরণশীল ৷ আমি হিন্দু , স্বভাবতঃই বিশ্বাস করি আত্মা , পরমাত্মা ও জন্মান্তরে ৷ ” ন জায়তে ম্রিয়তে বা কদাচিৎ
নায়ং ভূত্বাহভবিতা দা ন ভূয়ঃ ৷
অজো নিত্যঃ শাশ্বতোহয়ং পুরাণো
ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে ” ( গীতা ২/২০)
এই আত্মা জন্মেও না , মরেও না – ইনি- শাশ্বত ,
নিত্য ও জন্মরহিত ৷ দেহ নিহত হলেও এই আত্মা হত হন না ৷
একটু ভেবে দেখলেই আমরা বুঝতে পারব যে আমরা এই দেহ নই , আমরা চিন্ময় আত্মা ৷ অনেকে বলেন আত্মা জীবের কোন অংশ বা শরীর নয় ৷ দেহ জীবিত থাকলেই তার ভিতর আত্মা থাকে ৷ মৃত্যুর সময় আত্মা দেহ থেকে বেড়িয়ে যায় ৷প্রতীচ্যের সঙ্গে আমাদের দর্শনের এখানেই মৌলিক পার্থক্য ৷বিজ্ঞান বলে জীবন আর মৃত্যুর মাঝে তফাৎ হল মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ৷ যতক্ষন মস্তিষ্ক সঠিক ভাবে কর্মক্ষম থাকে ততক্ষণ আমরা আমাদের অস্তিত্বকে অনুভব করি ৷ তবে , কি আত্মা বা রুহ বা soul আমাদের পৃথক সত্তা ! তাহলে আমি কে? তার উত্তর দিয়েছে কঠ উপনিষদ(১/২/১৮) বলেছে , ” অজো নিত্য শাশ্বতোহয়ং পুরানো ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে “৷
তিনি অন্তরাত্মারূপে সর্বদা আমাদের ভিতর রয়েছেন ৷ ” যঃ সর্বেষু ভূতেষু তিষ্টন্ সর্বেভ্যো ভূতেভ্যোহন্তরো / যাং সর্বাণি ভূতানি ন বিদুর্যস্য সর্বাণি ভূতানি শরীরং , যঃ সর্বানি ভূ তান্যন্তরো যময়তি ৷/ এষ তে আত্মান্তর্যাম্যমৃত ইত্যধিভূতম্ ৷”
( বৃহঃ উপনিষদ ৩/৭/১৫) অর্থাৎ যিনি সর্বভূতে আছেন অথচ সর্বভূত থেকে আলাদা , সর্বভূত যাকে জানে না , কিন্তু সর্বভূত তাঁর শরীর ও সর্বভূতের অন্তরে থেকে যিনি সর্বভূতকে পরিচালিত করছেন , তিনিই তোমার আত্মা , ইনিই অন্তর্যামী ও অমৃত ৷ দেহ পরিবর্তিত হয় কিন্তু তার নিয়ামক শক্তি নিত্য , তিনিই অমৃত ৷ সেই পরমাত্মাকে প্রণতি জানাই ৷ আমরা সবাই পরমাত্মার অংশ ,” অমৃতস্য পুত্রাঃ ” ৷ খ্রিস্টিয় বিশ্বাসের মত ” পাপী নই ” ৷ আমরা বিশ্বাস করি ,
” বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায় নবানি গৃহ্নাতি নরোহপরাণি ৷ তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণান্যত্যমি
সংবাত নবানি দেহী (গীতা ২/২২) যার অর্থ আমরা যেমন পুরানো ছেঁড়া কাপড় ছেড়ে নতুন কাপড় পড়ি , তেমনি জীর্ণ দেহ ত্যাগ করে আত্মা নতুন নতুন শরীর গ্রহণ করে ৷ আমরা সবাই পরমাত্মায় বিলীন হবো ৷ মা ভৈ ৷

