ডাঃ দীপালোক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা।
মহরম এলে বাতাস জুড়ে
বিষাদের বাঁশি বাজে,
কারবালার রক্তরাঙা দিন
ইতিহাস ফিরে সাজে।
ফোরাত বয় অবিরাম স্রোতে,
তবু তৃষ্ণায় কাঁদে প্রাণ;
শিশুর ওষ্ঠে এক ফোঁটা জলও
হলো না সেদিন দান।
তপ্ত বালুর প্রতিটি কণায়
রক্তের লেখা শপথ,
অন্যায়ের কাছে নত না হওয়ার
অমর মানবমত।
মাথা কাটা যায়—নত হয়ো না,
শিখিয়েছেন হোসেন মহান;
সত্যের চেয়ে বড় নয় কিছু,
তাই আশুরা অম্লান ।
আজও তাই তাজিয়ার পথে
অশ্রুর নদী বয়ে যায়,
মাতমের সুরে ইতিহাস আজও
মানবতার গান গায়।
আমি হিন্দু—তবু হৃদয় আমার
নত হয় গভীর শ্রদ্ধায়;
যেখানে ত্যাগ মহিমান্বিত,
সেখানে ভেদরেখা হারায়।
মন্দির, মসজিদ, গির্জা, বিহার—
সব পথ একদিন মেশে,
মানুষ যদি মানুষকে ভালোবাসে,
ঈশ্বর হাসেন শেষে।
কারবালা তাই কেবল মুসলিমের নয়,
সমস্ত বিশ্বের বেদনা;
অত্যাচারের অন্ধকার ভেদে
জ্বলে আত্মত্যাগের চেতনা।
প্রতি মহরম স্মরণ করায়—
ক্ষমতা ক্ষণিক, সত্য অমর;
রক্ত ঝরে, দেহ মরে,
আদর্শ থাকে অক্ষয় অম্বর।
এসো আজ নীরব প্রণামে
নত করি আপন প্রাণ,
হজরত হোসেনের অমর ত্যাগে
জাগুক মানবতার জয়গান।
ধর্ম ভিন্ন হতে পারে,
ভিন্ন হতে পারে প্রার্থনার ভাষা;
কিন্তু অশ্রুর কোনো ধর্ম নেই—
ভালোবাসাই তার একমাত্র আশা।
কারবালার সেই লাল রক্ত
আজও পৃথিবীকে বলে—
“সত্যের পথে জীবন দিও,
অন্যায়ের কাছে মাথা নত নয় ।”
সবাই সত্যের শপথ নিও।

