কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : শিলিগুড়ি, ২৮ জুন, ২০২৬। টানা ভারী বৃষ্টিতে কার্যত বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলা। দার্জিলিংয়ের মিরিক, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। কোথাও ধস নেমেছে, কোথাও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে শহর ও গ্রামাঞ্চল, আবার কোথাও নদীর জল বিপদসীমার দিকে এগোতে থাকায় বন্যার আশঙ্কা। সব মিলিয়ে কদিনের লাগাতার বর্ষণে চরম দুর্ভোগের মুখে সাধারণ মানুষ।
রবিবার ভোররাত থেকে টানা বৃষ্টির জেরে সকালে দার্জিলিং জেলার মিরিকের গয়াবাড়ি এলাকায় পাহাড় ধসে পড়ে। ধস নামার ফলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। কর্মীরা ধস সরানোর কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর রাস্তার একাংশ এখন পরিষ্কার। আপাতত একমুখী যান চলাচল শুরু হয়েছে। তবে এলাকায় এখনও সতর্কতা জারি রয়েছে, কারণ অবিরাম বৃষ্টি চলতে থাকলে ফের ধস নামার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, আলিপুরদুয়ার শহরের পরিস্থিতিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। লাগাতার বৃষ্টিতে শহরের একাধিক এলাকা জলমগ্ন। বিশেষ করে ১, ৪, ৫, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর এবং নিচু এলাকা জলের তলায় চলে গেছে। ডিমা ও কালজানি নদীর জলস্তর বাড়ছে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে স্লুইস গেট আপাতত বন্ধ। কিন্তু তার ফলে শহরের জমে থাকা বৃষ্টির জলও বার হতে পারছেনা ! জল নামতে না পারায় বিস্তীর্ণ এলাকা জলামগ্ন। আলিপুরদুয়ার ফালাকাটা সড়কের ওপর দিয়েও জল বইতে শুরু করায় ওই রাস্তায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। সাধারণ মানুষ তাই চরম সমস্যায়।
একই ছবি কোচবিহারেও। টানা বর্ষণের জেরে তোর্সা নদীর জলস্তর অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। তোর্সা ডাইভারশনের উপর দিয়েও জলের স্রোত। নদীর জল আশপাশের এলাকায় ঢুকে পড়ায় কোচবিহার-২ নম্বর ব্লকের মধুপুর এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। বহু মানুষ জলবন্দি অবস্থায় এখন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পর্যালোচনা করতে এলাকায় যান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সুকুমার রায়। প্রশাসনও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে।
এদিকে আবহাওয়া দপ্তর থেকে উত্তরবঙ্গের জন্য কড়া সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় সোমবার পর্যন্ত লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই জেলাগুলিতে কোথাও কোথাও ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস। উত্তর দিনাজপুরে কমলা সতর্কতা জারি রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহ জেলাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির কমলা সতর্কতা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি। মঙ্গলবারও উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনায় কমলা সতর্কতা বহাল থাকবে। বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় হলুদ সতর্কতা জারি থাকবে।
আবহাওয়া দপ্তরের এই পূর্বাভাসে স্পষ্ট, আগামী কয়েকদিনও উত্তরবঙ্গের মানুষের দুর্ভোগ কমার সম্ভাবনা নেই। পাহাড়ে ধস, সমতলে জলাবদ্ধতা, নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পুরো আশঙ্কা। প্রশাসন সতর্ক থাকলেও পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

