কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ১৯ জুলাই, ২০২৬। মাছ, মাংস এখন অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছেই বিলাসিতা। সেই সময়ে আলিপুর চিড়িয়াখানার বাঘ, সিংহদের খাবারে বড় পরিবর্তন ! এতদিন মোষের মাংস নিয়মিত দেওয়া হত, এখন আর তা মিলছে না। ফলে তাদের পাতে তুলে দিতে হচ্ছে পাঁঠার মাংস। এই পরিবর্তনের জেরে চিড়িয়াখানার খরচ এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেছে। বাজারে মাংসের দাম লাগাতার বাড়তে থাকায় খাবার সরবরাহকারী সংস্থাগুলিও বাড়তি দাম দাবি করছে। সব মিলিয়ে আলিপুর চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষ এখন কার্যতআর্থিক চাপে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি অরণ্য ভবনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন চিড়িয়াখানার পশুপাখিদের খাবার সরবরাহকারী বিভিন্ন ভেন্ডর বা সংস্থার প্রতিনিধিরা। চিড়িয়াখানার ইতিহাসে এই প্রথম কোনও বনমন্ত্রী সরাসরি খাবার সরবরাহকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন ! বৈঠকে উঠে আসে মাংস সরবরাহের জটিলতা, বাড়তি খরচ এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংকটের কথা। সূত্রের খবর, প্রতিদিন মোষের মাংসের বদলে পাঁঠার মাংস দিতে গিয়ে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা বহন করতে হচ্ছে, সেই বিষয়টি বনমন্ত্রীর নজরেও আনা হয়।
বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ জানান, সমস্যার মূল কারণ কলকাতা পুরসভার কসাইখানার লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ না হওয়া। ফলে মোষ জবাই বন্ধ। তাই মোষের মাংসর সরবরাহ নেই। আপাতত তাই সমপরিমাণ পাঁঠার মাংস !
দরপত্রের তথ্য বলছে, মোষের মাংসের তুলনায় পাঁঠার মাংসের দাম প্রায় দ্বিগুণ। তবে প্রাণীদের খাবারের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ কোন রকম আপস করতে রাজি নয়। কারণ খাদ্যতালিকায় অনিয়মে তাদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে বাড়বে আর্থিক চাপ।
মাংসের আগুনদাম, তাই এখন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের চিন্তা ! কিন্তু, সাধারণ মানুষের হয়ে চিন্তা করার কে আছে ?

