পাকিস্তান মুর্দাবাদ, চরম আন্দোলন…।

পাকিস্তান মুর্দাবাদ, চরম আন্দোলন…।

Spread the love

কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ১৯ জুলাই, ২০২৬। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এখন আগ্নেয়গিরি! মানুষের অসন্তোষ জনসমাবেশ এবং আন্দোলন চলছেই। আন্দোলন দমনে পাকিস্তানের সেনা, রেঞ্জার্স ও পুলিশের কঠোর অভিযান। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের ধরপাকড়, গুলি, দমনপীড়ন কিছুই বাদ নেই। এই অভিযানে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ছাড়াও প্রাণ হারান কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষীও। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলও এখন উদ্বেগে। এবার তাই সরব রাষ্ট্রসংঘ।

জেনেভা থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক পাকিস্তান সরকারকে বলেছেন, জুন মাস থেকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে প্রত্যেকটি মৃত্যুর দ্রুত, নিরপেক্ষ এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এমনকি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও। কোনও পক্ষপাত ছাড়াই সত্য সামনে আনা এবং দায় নির্ধারণ করা জরুরি। একইসঙ্গে তিনি আসন্ন নির্বাচনে শান্তি, সংযম এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখারও আবেদন জানান।

রাষ্ট্রসংঘের উদ্বেগের বড় কারণ, বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়া জম্মু ও কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-কে পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। শুধু বেআইনি নয়, তাদের বহু নেতা, কর্মী ও সমর্থককও গ্রেপ্তার ! এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা রাষ্ট্রসংঘের। তাদের বক্তব্য, কোনও নাগরিক সংগঠনকে অপরাধী ঘোষণা করা এবং শান্তিপূর্ণ জনসমাবেশের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। মত প্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার এবং সংগঠন গড়ার স্বাধীনতা, এই মৌলিক অধিকারগুলির ওপর এমন হস্তক্ষেপ অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ বিবৃতিতে।

ভলকার টুর্ক আরও বলেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া জেএএসি নেতাদের আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিতে হবে এবং বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত কিনা দেখার দায়িত্বও পাকিস্তান সরকারের। কোনও নাগরিকের অধিকার যাতে খর্ব না হয়, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড মেনে চলার আহ্বানও জানানো হয়।

রাষ্ট্রসংঘ আরও দাবি করেছে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অবিলম্বে ইন্টারনেট পরিষেবা পুনরায় চালু করা হোক। অভিযোগ, আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের নামে বহু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সাধারণ মানুষ তথ্য আদান-প্রদান, যোগাযোগ এবং নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ! এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক জনজীবন প্রভাবিত মারাত্মকভাবে।

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে এই আন্দোলনের মূল কারণ বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, অস্বাভাবিক হারে কর বৃদ্ধি, লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি এবং প্রশাসনের দমনমূলক নীতির ফলে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ ! এই সব সমস্যার প্রতিবাদেই জম্মু ও কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির আন্দোলন। অভিযোগ, বিক্ষোভ সামাল দিতে রেঞ্জার্স ও পুলিশের পাশাপাশি লস্কর-ই-তইবা-সহ একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদেরও ব্যবহার করা হচ্ছে !

আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ ফিরিয়ে দিতে হবে। আন্দোলনকারীদের একাংশ ভারতের কাছেও সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে বলে দাবি ! রাষ্ট্রসংঘের হস্তক্ষেপে আন্তর্জাতিক মহলেরও নজর এখন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের দিকে।

এখন প্রশ্ন, সংকটের সমাধান কি গণতান্ত্রিক পথে হবে, নাকি দমন-পীড়ন বাড়বে ? তাছাড়া মুসলিম জনগণের ওপর পাকিস্তান সরকারের অত্যাচার নিয়ে সেকুলার পার্টিগুলির কি মত ?

 

 

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *