তারাতলায় গুদাম নির্মাণের কাজ নিয়ে বিস্ফোরক সেলিম…।

তারাতলায় গুদাম নির্মাণের কাজ নিয়ে বিস্ফোরক সেলিম…।

Spread the love

বিস্ফোরক সেলিম ! কি বললেন ?

 

কঙ্ক ঘোষ দস্তিদার : কলকাতা, ২৫ জুন, ২০২৬। তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম যে একদিন বড়সড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে, সেই আশঙ্কার কথা নাকি অনেক আগেই জানানো হয়। বুধবার ভয়াবহ দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমনই বিস্ফোরক দাবি, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের। তাঁর অভিযোগ, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বারবার সতর্ক করা হলেও সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সেই অবহেলার ফল আজকের এত বড় দুর্ঘটনা !

সিপিএমের দাবি, গত ১১ জুন তাদের শ্রমিক সংগঠন বন্দর কর্মী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়। ইতিমধ্যেই সেই দু’পাতার চিঠিও প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নাজিরাবাদের একটি গুদামে শ্রমিকদের অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনার কথা। একইসঙ্গে অভিযোগ করা হয়, ‘কুখ্যাত’ আসগার সম্বন্ধেও ! তাঁরই তত্ত্বাবধানে তারাতলায় গুদাম নির্মাণের কাজ চলছিল ! শ্রমিক সুরক্ষা সংক্রান্ত নিয়মের সেখানে কোন বালাই নেই ! তাই শ্রমিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে ! কিন্তু সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেই দাবি সেলিমের !

অন্যদিকে, দুর্ঘটনার দায় নিয়ে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্মাণকাজের অনুমোদনের দায়িত্ব তাদের নয়। বন্দরের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, জমির সত্ত্ব বা মালিকানা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল মাত্র। কিন্তু নির্মাণের নকশা ও নির্মাণকাজের অনুমোদন দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। ফলে এই ঘটনায় দায় কার, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ! কে না জানে দায় নিলেই, দায়ভার ঘাড়ে চাপবে !

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে নির্মাণের নকশাতেই কিছু গুরুতর ত্রুটি থাকতে পারে। সেই কারণেই এই বিপর্যয়, প্রাথমিকভাবে অনুমান। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, নির্মাণ কাজের নকশার অনুমোদন দিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। ফলে তদন্তের নজর এখন সেই অনুমোদন প্রক্রিয়ার দিকেও। ওখানেই ঘুঘুরা থাকে !

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কারুর গাফিলতি, অবহেলা কিংবা দায়িত্বজ্ঞানহীনতা রেয়াত করা হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস তাঁর।

এই ঘটনার পর রাজ্য সরকার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তৃণমূল আমলে অনুমোদিত বিভিন্ন বাণিজ্যিক নির্মাণ প্রকল্পের নকশা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, কলকাতা পুর এলাকার মধ্যে জলাশয় ভরাট করে কিংবা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চলতে থাকা বিভিন্ন নির্মাণকাজ আপাতত আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ রাখা হবে। এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নির্মাণগুলির নিরাপত্তা, নকশা ও অনুমোদনের বৈধতা পরীক্ষা করা হবে। ঘাপলা বার হওয়া দরকার।

এজন্য গঠন করা হচ্ছে একটি বিশেষ অডিট টিম। এই টিমে থাকবেন পূর্ত দফতর (পিডব্লুডি), সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ, কলকাতা পুরসভা এবং দমকল বিভাগের প্রতিনিধিরা। তারা সংশ্লিষ্ট নির্মাণস্থলগুলি পরিদর্শন করবে, বিল্ডিং প্ল্যান খতিয়ে দেখবে এবং অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনও ত্রুটি বা অনিয়ম আছে কিনা তা পরীক্ষা করবে। অডিট টিমের রিপোর্ট সন্তোষজনক হলে তবেই পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করার অনুমতি দেওয়া হবে।

তবে সব ধরনের নির্মাণকাজ এই নির্দেশের আওতায় আসছে না। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, হাসপাতাল, দমকল কেন্দ্র, মেট্রো প্রকল্প, সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো কিংবা জনস্বার্থে অত্যাবশ্যক সরকারি প্রকল্পগুলির কাজ আগের মতোই চলবে। সেগুলিকে এই সাময়িক নির্মাণ নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।

তারাতলার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শুধু একটি নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ধসের ঘটনা নয়, বরং নির্মাণক্ষেত্রে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক নজরদারি এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সতর্কবার্তা দেওয়া হলে কেন তা গুরুত্ব পেল না ! কোথায় ছিল তদারকি? আর কার গাফিলতিতে এত বড় বিপর্যয় ?

 

 

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *