নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা, ১৮ জুলাই, ২০২৬। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর মৌলবাদীদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে প্রায় কুড়ি বছর পর কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করতে চলেছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট লেখিকা তথা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন । আর এই ঘটনায় শহর কলকাতার বিভিন্ন স্থানে পোস্টারিং করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তসলিমা নাসরিনকে শুভেচ্ছাবার্তা দিল ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যশালী সংগঠন অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা । শুধু তাই নয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যপাল আর.এন.রবি, রাজ্যের চিফ সেক্রেটারি এবং সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে তসলিমা নাসরিনকে কলকাতায় নিয়ে আসার বিষয়ে চিঠি লিখে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করলেন হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি তথা তরুণ বিজেপি নেতা ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী । ওনার বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গে একমাত্র বিজেপি সরকার আসার ফলেই “তাসলিমা ইন আর জিহাদী মৌলবাদী আউট” হওয়ার মত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, কারণ শুধুমাত্র নির্ভীক কণ্ঠ হিসেবে ধর্মান্ধতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার জন্য পূর্বের সিপিএম সরকার বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিনকে তাড়িয়ে ছিল, তৃণমূল সরকার প্রত্যাবর্তনে বাধা দিয়েছিল কিন্তু শুভেন্দু বাবুর নেতৃত্বাধীন প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ সরকার তসলিমা নাসরিনকে পশ্চিমবঙ্গে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে বার্তা দিয়েছে এই সরকার সন্ত্রাসবাদ ও জিহাদী মৌলবাদের রক্ত চক্ষুকে ভয় পায়না । তসলিমা কলকাতায় আসার ফলে জিহাদীদের সাথে বামপন্থী কমিউনিস্টদের অত্যন্ত রাগ হচ্ছে কারণ তারা মুখে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সাম্যবাদের কথা বললেও আসলে তারা তাদের কাজের মাধ্যমে শুধুমাত্র হিন্দুধর্মকে আক্রমণ করে এবং জিহাদী সন্ত্রাসীদের পক্ষে ঢাল হিসেবে সহযোগিতা করে। কারণ অর্থের বিনিময়ে চীন ও ইসলামিক সন্ত্রাসবাদের কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়া কমিউনিস্টরাও তসলিমা নাসরিন ও মুক্ত কণ্ঠের উপর আঘাত হেনে দুধেল গায়ের রাজনীতি করতে গিয়েছিল । অফিস সেক্রেটারি অনামিকা মন্ডল বলেন তসলিমা নাসরিন মেরুদণ্ড সোজা রেখে জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও যেভাবে জিহাদী মৌলবাদের তরবারের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র কলম ধরে প্রতিবাদ করছেন তাতে একজন নারী হিসেবে আমরা গর্বিত এবং উনি সমগ্র নারী সমাজের কাছে আদর্শ ব্যক্তিত্ব । মহাসভার সদস্য সন্দীপন সরকার বলেন মৌলবাদের বিরুদ্ধে হিন্দু মহাসভার এই লড়াই শুধুমাত্র হিন্দুদের লড়াই নয়, এটি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সমগ্র মানবজাতির লড়াই । প্রীতম বালা বলেন তসলিমা নাসরিনকে রাজ্যে আনার ফলে সমগ্র বিশ্বের কাছে প্রকৃত ধর্ম নিরপেক্ষতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার । অন্তরা মিত্র ও অঞ্জন প্রসাদ মজুমদার বলেন তসলিমা নাসরিনকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি আগামী দিনে নির্ভীক কণ্ঠের সমস্ত প্রতিবাদী মানুষদের কণ্ঠ হিসেবে হিন্দুমহাসভার কালচারাল উইং সাংস্কৃতিক সমন্বয় মঞ্চ রবীন্দ্রসদন, অ্যাকাডেমি, তপন থিয়েটার, গিরিশ মঞ্চ, মিনার্ভা, মধুসূদন মঞ্চ সহ কলকাতার একাধিক স্থানে সুস্থ সংস্কৃতির মানুষদের একত্রিত করে মৌলবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ চলবে । রাজ্যের হিন্দু মহাসভার পক্ষ থেকে নৃত্যশিল্পী অসীম কুমার রায় এবং সাহিত্যিক সরোজ ভট্টাচার্য্যও আজ উপস্থিত ছিলেন । তসলিমা নাসরিনের প্রত্যাবর্তন বিতর্কে হিন্দু মহাসভার সুস্পষ্ট অবস্থান যে বিশেষ মাত্রা যোগ করলো সেই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই ।

