জলের অপচয় রোধে এই রাজ্যে গড়ে উঠছে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের মডেল গ্রাম….।

জলের অপচয় রোধে এই রাজ্যে গড়ে উঠছে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের মডেল গ্রাম….।

নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫। আর্সেনিক ও ফ্লুরাইড প্রবণ এলাকার মানুষের জন্য নিরাপদ পানীয় জল নিশ্চিত করতে এবং পানীয় জলের অপচয় রুখতে রাজ্য জুড়ে তৈরি হচ্ছে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের মডেল গ্রাম। এর মাধ্যমে গ্রামীণ মানুষকে যেমন স্বচ্ছ পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছে তেমনি জল সংরক্ষণ ও স্যানিটেশন নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিও করা হচ্ছে ।

এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়াটার ফর পিপল ইন্ডিয়া। তাদের সহায়তায় ইতিমধ্যেই বীরভূম, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, ঝাড়গ্রাম সহ একাধিক জেলায় রেন ওয়াটার হারভেস্টিং প্রকল্প চালু হয়েছে।

সংস্থার রাজ্য প্রধান সুজাতা ত্রিপাঠী কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক কর্মশালায় জানান, “আমরা গত ১৫ বছর ধরে এই কাজ করছি। ইতিমধ্যেই বীরভূমে ১৭টি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৯টি রেন ওয়াটার হারভেস্টিং প্রকল্প তৈরি হয়েছে। হাওড়া ও অন্যান্য জেলাতেও কাজ চলছে।”

তিনি আরও বলেন, “বৃষ্টির জল সংরক্ষণের ফলে যেমন আর্সেনিক, ফ্লুরাইড দূষিত জলের সমস্যা থেকে মানুষকে রক্ষা করা যাবে, তেমনি গ্রামীণ স্তরে জলের অপচয়ও কমানো সম্ভব হবে।”

এছাড়া জেলার বিভিন্ন গ্রামে যেখানে শৌচাগার থাকা স্বত্ত্বেও মানুষ তার সঠিক ব্যবহার থেকে বিরত থাকছে, মাসিককালীন স্বাস্থ্যবিধি ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় পিছিয়ে রয়েছে, সেখানে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক অভ্যাস পরিবর্তননের কাজও চলছে। জল জীবন মিশন, স্বচ্ছ ভারত অভিযান, নির্মল বাংলা এবং আনন্দধারা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই উদ্যোগকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সাহায্যে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু আর্সেনিক বা ফ্লুরাইড দূষণ রোধেই নয়, বরং আগামী দিনে রাজ্যের জল সংকট মোকাবিলাতেও কার্যকরী ভূমিকা নেবে। এদিনের সংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সফদার আলী, সব্যসাচী মিত্র, সুস্মিতা চক্রবর্তী ও তরুণ মাইতি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *