৮০০ জন বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের নিয়ে   আশায়েন ২০২৬: খেলাধুলা, অন্তর্ভুক্তি ও আশার আলোয় উজ্জ্বল কলকাতা….।

৮০০ জন বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের নিয়ে আশায়েন ২০২৬: খেলাধুলা, অন্তর্ভুক্তি ও আশার আলোয় উজ্জ্বল কলকাতা….।

নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। রবিবার কলকাতায় এক অনন্য মানবিক উদ্‌যাপন প্রত্যক্ষ করল শহরবাসী। আশা, সাহস ও অন্তর্ভুক্তির বার্তা নিয়ে ১২তম বর্ষে ফিরে এল আশায়েন – রোশনি উম্মিদোঁ কি, বার্ষিক প্যারালিম্পিক ক্রীড়া উৎসব। শহরের ৪০টি স্কুল ও বিশেষ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৮০০ জন বিশেষভাবে সক্ষম শিশু সারাদিনব্যাপী এই অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া কার্নিভালে অংশ নেয়।
লায়ন্স ক্লাব অব কলকাতা (ডিস্ট্রিক্ট ৩২২বি১)-এর উদ্যোগে এবং রাউন্ড টেবিল ইন্ডিয়া (RT 113) ও লেডিস সার্কেল ইন্ডিয়া (LC 132)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় গীতাঞ্জলি স্টেডিয়াম গ্রাউন্ডে। উৎসাহ, উদ্দীপনা ও সমবেত অংশগ্রহণে গোটা প্রাঙ্গণ দিনভর প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের মর্যাদা, সমান সুযোগ ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির প্রতি শহরের অঙ্গীকারকে নতুন করে দৃঢ় করে এই উদ্যোগ।
প্রতিযোগিতার চেয়েও অংশগ্রহণ, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিগত সাফল্য উদ্‌যাপন ছিল এই ক্রীড়া উৎসবের মূল লক্ষ্য। ৫০ মিটার ও ১০০ মিটার দৌড়, বল নিক্ষেপ, শট পুট-সহ একাধিক ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। নিরাপত্তা, ন্যায্যতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে সোদপুর রেফারি অ্যাসোসিয়েশন (এসআরএ)-এর প্রশিক্ষিত আধিকারিকরা প্রতিটি খেলায় তত্ত্বাবধান করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অতিথি ও সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দেবেন্দ্র প্রকাশ সিং, আইপিএস, অতিরিক্ত কমিশনার অব পুলিশ, কলকাতা পুলিশ এবং রূপেশ কুমার, আইপিএস, যুগ্ম কমিশনার অব পুলিশ (ট্রাফিক), কলকাতা পুলিশ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিএ পবন কুমার পতোদিয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট, স্পেশাল অলিম্পিক্স ভারত, যিনি অংশগ্রহণকারী শিশু, স্বেচ্ছাসেবক ও আয়োজকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মনোজ আগরওয়াল, সেক্রেটারি, লায়ন্স ক্লাব অফ কলকাতা; শৈলেন্দ্র তিওয়ারি, ট্রেজারার, লায়ন্স ক্লাব অফ কলকাতা; হর্ষ করনানি, চেয়ারম্যান, রাউন্ড টেবিল ইন্ডিয়া (RT 113); এবং অনুরাগ মিত্তাল, এরিয়া চেয়ারম্যান, রাউন্ড টেবিল ইন্ডিয়া (এরিয়া 4)। তাঁরা সকলেই অংশগ্রহণকারী শিশুদের উৎসাহিত করেন এবং এই অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বর্ণাঢ্য মার্চপাস্ট, পতাকা উত্তোলন ও বেলুন ওড়ানোর মাধ্যমে, যা সারাদিনের জন্য এক ইতিবাচক আবহ তৈরি করে। ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পাশাপাশি একটি আলাদা ফান কার্নিভাল জোন ছিল, যেখানে ম্যাজিশিয়ান, জাগলার, চরিত্রাভিনেতা ও ইন্টার‌্যাক্টিভ পারফরমারদের উপস্থিতি শিশুদের আনন্দে ভরিয়ে তোলে। স্বেচ্ছাসেবকেরা ভেন্যু জুড়ে থেকে অংশগ্রহণকারীদের সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
প্রতিটি অংশগ্রহণকারী শিশু পেয়েছে প্রাতরাশ ও মধ্যাহ্নভোজ, ইভেন্ট টি-শার্ট, জ্যাকেট, ক্যাপ এবং বিশেষভাবে সাজানো উপহার সামগ্রী—যা প্রতিযোগিতার চেয়ে অংশগ্রহণ ও মর্যাদাকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা বহন করে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লায়ন কৃষ্ণন গোপাল কেজরিওয়াল, সভাপতি, লায়ন্স ক্লাব অব কলকাতা বলেন, “আশায়েন কেবল খেলাধুলার মঞ্চ নয়। এই উদ্যোগ প্রতিটি শিশুর সাহস, আত্মবিশ্বাস ও অদম্য মানসিকতাকে সম্মান জানায়।”
আশায়েন ২০২৬-এর চেয়ারম্যান লায়ন প্রশান্ত জৈসওয়াল বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবক ও কমিউনিটি পার্টনারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এই অন্তর্ভুক্তিমূলক মঞ্চ সম্ভব হয়েছে।
দীর্ঘ কয়েক দশকের ঐতিহ্য নিয়ে লায়ন্স ক্লাব অব কলকাতা স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে। দ্বাদশ বর্ষে পদার্পণ করা আশায়েন আজ তাদের অন্যতম প্রভাব সৃষ্টিকারী সামাজিক উদ্যোগ, যা কলকাতার মানবিকতা ও সহমর্মিতার ঐতিহ্যকে আরও একবার তুলে ধরল।

ছবি – সায়ন দেবনাথ।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *